
কলকাতা: বাংলাদেশ বিশ্বকাপকে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন জাতীয় দলের সহকারী কোচ মহম্মদ সালাহউদ্দিন। তিনি সরাসরি প্রাক্তন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে “নির্লজ্জ মিথ্যে” বলার অভিযোগ তুলেছেন। এই ইস্যু ক্রীড়া মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকার করে। বাংলাদেশ চেয়েছিল, ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলে। বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে সুযোগ দেওয়া হয়।
প্রথম দিকে আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল সরকারের। কিন্তু দায়িত্ব ছাড়ার ঠিক আগে তিনি বলেন, এটি খেলোয়াড় ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ সিদ্ধান্ত। এই ‘ইউ-টার্ন’ নিয়েই ক্ষুব্ধ সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, “তিনি নির্লজ্জ মিথ্যে বলেছেন! আমিও একজন শিক্ষক। শিক্ষকরা সাধারণত মিথ্যে কথা কম বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এ ভাবে প্রকাশ্যে মিথ্যে বলবেন, তা কল্পনাও করতে পারিনি। আগে এক কথা, পরে আর এক কথা। এটা আমরা কী ভাবে মেনে নেব?” মিডিয়ার দাবি, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় তাঁদের মতামতের কোন গুরুত্ব ছিল না। সেই প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, “একজন ২৭ বছরের তরুণ যখন বিশ্বকাপে খেলতে যায়, বহু বছরের স্বপ্ন সঙ্গে নিয়ে যায়। এক মুহূর্তে সেই স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”
সালাহউদ্দিন একই সঙ্গে বলেছেন, “যদি দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, খেলোয়াড়রা অবশ্যই ত্যাগ স্বীকার করবে। কিন্তু ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা বললে, কয়েকজন ক্রিকেটারের স্বপ্ন সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে গিয়েছে। আমাদের দু’জন খেলোয়াড় পাঁচ দিন প্রায় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। তাঁদের আবার মাঠে ফেরানোই আমাদের জন্য বড় সাফল্য।” এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কি আদৌ খেলোয়াড়দের ছিল, নাকি পুরো বিষয়টিই রাজনৈতিক?