
কলকাতা: ভারতের কাছে ৬১ রানের ব্য়বধানে হারের পর, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পথ এখন বেশ কঠিন। বর্তমানে একটি ম্যাচের ফলই ঠিক করে দিতে পারে, ম্য়াচে পাকিস্তানের টিকে থাকা বা বিদায়। তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই জিতে ভারত ইতিমধ্যেই সুপার এইটে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তিনটি ম্যাচে দুটিতে জিতে ও একটিতে হেরে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জেতার ফলে। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পয়েন্ট সমান হলেও, রান রেটে এগিয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ইতিমধ্যেই সব ম্যাচ খেলে ফেলেছেন শুভম রঞ্জনেরা, ফলে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয় ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই।
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে পাকিস্তানের হার ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৭৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। মাত্র ১৩ রানের মধ্যেই পাকিস্তানের তিনটি উইকেট পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রান করে তারা অলআউট হয়। উসমান খান ৪৪ রান করে সর্বোচ্চ স্কোর করলেও পাশে পান নি কাউকে। অন্যদিকে ভারতের ব্যাটিং পারফরম্য়ান্স ছিল দূর্দান্ত। ইশান কিশানের ৭৭ রানের সঙ্গে সূর্যকুমার যাদব ও শিবম দুবের ব্য়াটিং ভারতকে পৌঁছে দেয় ১৭৫ রানে। এই রানই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলের মহাযুদ্ধে সর্বোচ্চ স্কোর। প্রথম ওভারেই অভিষেক শর্মা আউট হয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ম্যাচের হাল ধরেন ঈশান কিষান।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন বলেন, এই হার তাদেরকে বড় আঘাত দিয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের গুরুত্ব সবাই জানে। খেলোয়াড়রা হতাশ। তবে তাঁর মতে, বল শুরুর দিকে ঘুরছিল। তাই প্রথমে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না, কিন্তু ভারতের ব্যাটাররা পরিস্থিতি ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। এখন পাকিস্তানের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয় বাধ্যতামূলক। হারলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। তবে বৃষ্টিতে ম্যাচ বিঘ্নিত না হলে, দুই দলই পয়েন্ট ভাগ করে নেবে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান সুপার এইটে পৌঁছে যাবে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও পাক কোচ বলেন, দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস নিয়েই পরের ম্যাচে নামতে হবে।