
কলকাতা: ২০০৪ সালে ক্রিকেটই ছিল তাঁর ভবিষ্যতের কল্পনা। কিন্তু ঠিক সেই বছরই, মাএ ১৭ বছর বয়সে তাঁকে পাকিস্তান থেকে পাড়ি দিয়েছিলেন কানাডায়। কে সেই কিশোর জানেন? তিনি হলেন সাদ বিন জাফর। বর্তমানে তিনি কানাডার ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে জাফরের কানাডায় আসা ক্রিকেটের জন্য় নয়, বরং শিক্ষাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। এক সাক্ষাৎতকারে সাদ বলেছেন, “কানাডায় আসার পেছনে বাবা মায়ের একটাই লক্ষ্য ছিল, ভালো পড়াশোনা। বাবা বলতেন, ক্রিকেট খেলো, কিন্তু পড়াশোনায় যেন তার কোনো প্রভাব না পড়ে।” সেই ভাবনা নিয়েই নতুন দেশে পা রাখেছিলেন সাদ বিন জাফর।
পাকিস্তানে থাকাকালীন ক্রিকেট ছিল তাঁর কাছে নেহাতই শখ। স্কুল ক্রিকেটে বহু বার খেললেও কখনও ভাবেননি ক্রিকেটকেই পেশা হিসেবে নেবেন তিনি। কানাডায় এসে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক করেন তিনি। পড়াশোনার ফাঁকেই শুরু হয় ক্লাব ক্রিকেটে খেলা। টরন্টোর সুপার নাইন লিগে। ২০০৮ সালে কানাডার হয়ে অভিষেক হলেও শুরুর বছরগুলো সহজ ছিল না জাফরের। কখনও দলে সুযোগ, আবার কখনও বাদ, এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই করেছেন তিনি। ২০১৫ সালের পর ছবিটা কিছুটা বদলে যায়। নিয়মিত সদস্য হিসেবে দলে জায়গা পাকাপোক্ত করেন সাদ। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দলের নির্ভরযোগ্য প্লেয়ার। বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়ে কানাডার প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়কও হন তিনি। বর্তমানে অধিনায়ক না হলেও দায়িত্ব কমেনি সাদের। ব্যাটার হিসেবে ম্যাচ জেতানোই এখন তাঁর লক্ষ্য।
প্রথমদিকে কানাডায় ক্রিকেট ছিল তাঁর পার্টটাইম পেশা। ইনশিওরেন্স সংস্থায় কাজ করতেন সাদ। খেলার সময় ছুটি ও কাজ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হলেও, ক্রিকেট ছাড়েননি তিনি। শেষে ২০১৮ সালে ক্রিকেটে সাফল্যের পর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ক্রিকেটে মন দেন জাফর। শুরুতে যে বাবা পড়াশোনাকেই প্রাধান্য় দিতেন, আজ সেই বাবাই তাঁর সবচেয়ে বড় সমর্থক। সাদ হাসতে হাসতে বলেন, “এখন ওরা আমাকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন।” শুরুটা শিক্ষার টানে হলেও, আজ কানাডার ক্রিকেট ইতিহাসে এটি এক অনন্য অধ্যায়।