
কলকাতা: বিশ্বকাপের সূচি ঘিরে জটিলতা যেন ক্রমশ বাড়ছে। সুপার এইট পর্ব থেকেই সামনে আসছে নানা সমীকরণ। তারই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে ইডেন গার্ডেন্স। শ্রীলঙ্কা যদি সেমিফাইনালে ওঠে, তা হলে ইডেন গার্ডেন্সে সেমিফাইনাল নাও হতে পারে। এমনটাই সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উঠে আসছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী প্রথম সেমিফাইনালটি একটি ‘ফ্লোটিং ফিক্সচার’। অর্থাৎ ম্যাচটি কলকাতা বা কলম্বোর যে কোনও একটি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠিত হতে পারে। কোন দল সেমিফাইনালে উঠছে এবং তাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তার উপরই নির্ভর করছে ভেন্যু নির্বাচন।
আইসিসি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে তারা ৪ মার্চ কলম্বোতেই সেমিফাইনাল খেলবে। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে হওয়া হাইব্রিড মডেল অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে ম্যাচ খেলবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলেই এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। পাকিস্তান যদি সেমিফাইনালে উঠতে না পারে, তার বদলে যদি শ্রীলঙ্কা ওঠে এবং যদি তাদের প্রতিপক্ষ ভারত না হয়, সে ক্ষেত্রেও সেমিফাইনাল কলম্বোতেই হবে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স সেমিফাইনাল আয়োজনের সুযোগ হারাবে। সুপার এইটের গ্রুপ বি-তে রয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। তাই তাদের মধ্যে সেমিফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে সমীকরণ অনেকটাই পরিষ্কার। পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কা যদি শেষ চারে ওঠে এবং ভারত যদি সেমিফাইনালে না ওঠে, তবে ইডেন থেকে ম্যাচ সরে যাবে কলম্বোতে।
বাকি থাকছে আরও একটি অঙ্ক। যদি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা দুই দলই সেমিফাইনালে উঠতে না পারে তাহলে কী হবে? প্রথম সেমিফাইনাল পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কলকাতাতেই হবে। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল আয়োজন করবে মুম্বই। ভারত সেমিফাইনালে উঠলে তাদের ম্যাচ মুম্বইয়ে হওয়ার কথা। তবে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান হলে সেটিও কলম্বোতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। গত নভেম্বর মাসে প্রকাশিত সূচিতে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও, শ্রীলঙ্কা নিজে নকআউটে উঠলে কী হবে, তা স্পষ্ট করে বলা ছিল না। সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা সেই ধোঁয়াশাই কাটিয়েছে। শ্রীলঙ্কার ঘরের মাঠে সেমিফাইনালের খেলার সম্ভাবনার কথাও বলেছে। ফলে সুপার এইটের লড়াই যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, তেমনই ভেন্যু নিয়েও বাড়ছে কৌতূহল।
শ্রীলঙ্কার সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা আপাতত কতটা? সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছে তারা। বাকি দুটো ম্য়াচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিতলে প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ফের কাপের স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে।