
কলকাতা: সুপার এইটে উঠে চমকে দিয়েছে তারা। নতুন এক প্রজন্মের হাত ধরে ফের প্রত্যাবর্তন হয়েছে জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের। কিন্তু সুপার এইটের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর বেশ চাপে সিকন্দর রাজার দল। এই পরিস্থিতিতে সেমির স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামছে জিম্বাবোয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বড় ব্যবধানে হার থেকে শিক্ষা নেবে দল। সেই সঙ্গে ভারতের দুর্বলতা কাজে লাগাতে চাইবে। এই ম্যাচ হারলে জিম্বাবোয়ের গল্প কার্যত শেষ হয়ে যাবে। তাই মরিয়া হয়ে মাঠে নামতে চাইছেন সিকন্দররা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটিং ইউনিটকে থামাতে ব্যর্থ হয়েছে জিম্বাবোয়ে। ১০৭ রানে হেরেছে টিম। দলের কোচ জাস্টিন স্যামন্স মনে করেন, হতাশাজনক হলেও এই অভিজ্ঞতা গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিরুদ্ধে কাজে লাগতে পারে। চেন্নাইয়ে ‘মাস্ট-উইন’ ম্যাচের আগে দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন জিম্বাবোয়ে কোচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর সাংবাদিক সম্মেলনে স্যামন্স স্বীকার করে নিয়েছেন, ভারতও তাঁর টিমের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কৌশল নেবে।
স্যামন্স বলেছেন, “আমরা জানি ভারত কতটা মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ভাবে আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ইনিংস শুরু করেছিল, সেটা ভারতও করতে চাইবে। ওরা কোনও ভাবেই রক্ষণাত্মক হবে না। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে। চাপের মধ্যে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয়, কী ভাবে নিজেদের কুল রাখতে হয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপক্ষের জুটি ভাঙতে হয়, দ্রুত কৌশল বদলাতে গেলে কী করতে হয়, এগুলো কিন্তু আমাদের শিখতে হবে।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৫৪ রানের বিশাল স্কোর তোলে। সিমরন হেটমায়ার ৮৫ করেন। রভম্যান পাওয়েল ৫৯ রান করে যান। বল হাতে গুডাকেশ মোটি মোট চারটি উইকেট নেন। আর আকিল হোসেন তিনটি উইকেট তুলে নেন। জবাবে জিম্বাবোয়ে ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। নিজের টিমের ব্যর্থতা নিয়ে স্যামন্স বলেন, বোলিংয়ে তাঁর দলকে আরও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া উচিত ছিল। “আমরা নিজেদের ধারণা নিয়ে বোলিং করেছি। ওই জায়গায় আরও স্মার্ট হতে পারতাম। চেন্নাইয়ের মাঠটা একটু বড়। সেখানে হয়তো এই দিকটা সামলানো কিছুটা সহজ হবে,” মন্তব্য করেন তিনি।
জিম্বাবোয়ের কোচ আরও বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে দল নিজেদের নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে গিয়েছিল। ব্যাটিংয়েও যার ছাপ পড়েছে। স্যামন্সের কথায়, “শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও আমরা আমাদের পরিকল্পনা থেকে সরে গিয়েছিলাম। আর সেখানেই ছন্দ হারিয়েছি।”
সুপার আটের এই ম্যাচের আগে ভারত ও জিম্বাবোয়ে দু’দলই হারের ধাক্কা নিয়ে মাঠে নামছে। ফলে ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে। সূর্যের নেতৃত্বে ভারত আবার ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। আর জিম্বাবোয়ের কাছে চ্যালেঞ্জ হবে দ্রুত হারের ধাক্কা থেকে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা। উচ্চ-স্কোরিং ম্যাচের চাপ সামলানো। ব্যাটে-বলে পারফরম্যান্স দেখিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়া।