
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কত বয়স জানেন? ৫ ফেব্রুয়ারি ৪১এ পা দিলেন সিআর সেভেন। এখনও গোল করেন, দলকে জেতান, ট্রফির স্বপ্ন দেখান। বয়স তাঁর কাছে স্রেফ সংখ্যা। বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া লোকজন খেলার দুনিয়ায় কম নেই। এই তো ক’দিন আগে ইউএস ওপেনের ফাইনাল খেললেন নোভাক জকোভিচ। জোকারের বয়স কত জানেন? মাত্র ৩৯! ফুটবল, টেনিসের বাইরেও কিন্তু ‘বুড়ো’দের রমরমা কিছু কম নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই তো চমকে দিচ্ছে।
জোকার কিংবা রোনাল্ডোদের দাদারা খেলছেন ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত T20 বিশ্বকাপে। যাঁরা বয়সকে হার মানাচ্ছেন প্যাশনের দিয়ে। এই ওমানকেই ধরুন না। ৪৩ বছরের মহম্মদ নাদিম এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটার। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, অভিজ্ঞ নাদিমকে এখনও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারছেন না ওমানের তরুণরা। ওমানেরই আর এক প্লেয়ার আমির কালিমের বয়স চমকে দেওয়ার মতো। নাদিম ছোটভাই হলে আমির বড়ো ভাই। ৪৪ বছর বয়সে দাপিয়ে খেলছেন দেশের হয়ে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিন্তু বুড়োদের ভিড় কম নেই। জিম্বাবোয়ের খেলোয়ার ব্রেন্ডন টেলরকেই ধরা যাক। দীর্ঘ ২২ বছরের কেরিয়ারে জিম্বাবোয়েকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন ব্রেন্ডন। বয়স ৪০ হলেও এখনও প্রতি ম্যাচে নিজের ১০০% দেওয়ার তাগিদ নিয়ে মাঠে নামেন। জিম্বাবোয়ে দলে এখনও তিনি অপরিহার্য। আফগানিস্তানের স্পিনার অলরাউন্ডার মহম্মদ নবিরও ৪১ বছর। তাতে কী যায় আসে। আইপিএল হোক বা দেশের হয়ে ম্যাচ, নবি থাকা মানেই দল নির্ভাবনায়।
ইতালি ফুটবলের যতই আলোচিত হোক, ক্রিকেট ইতিহাস একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তবে এই প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে আজ্জুরিরা। দলের কেউ ক্যাব ড্রাইভার, কেউ পিজ্জা ডেলিভারি। এই ইতালিতে সবচেয়ে চর্চায় অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন। বয়স কত জানেন, ৪২। তাতে কী, দলকে টানেন। স্বপ্ন দেখান। তবে খারাপ খবর হচ্ছে, ম্যাডসেন গুরুতর চোট পেয়েছেন। এই বিশ্বকাপে আর খেলতে পারবেন কিনা, সংশয়ে দল।
বুড়োদের লম্বা তালিকায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদও। তাঁর স্পিন, ঘূর্ণি বহুবার ম্যাচের রং বদলে দিয়েছে। ৩৭ বছরের আদিল রশিদ ম্যাচ উইনার। চমকে দেন বিপক্ষকে। দলে ভরসার মুখ।
বয়স সত্যিই সংখ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। স্বপ্নের খোঁজে নেমে নিজের বয়সকে অনেকেই পাত্তা দেন না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কি বুড়োদের তাতিয়ে দিচ্ছে?