
কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরেছে ভারত। এই হারের ফলে দল নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশেষ করে ঘরের মাঠে আহমেদাবাদে অক্ষর প্যাটেলকে না খেলিয়ে, ওয়াশিংটন সুন্দরকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডুশখাটে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। রায়ান জানান,দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, কুইন্টন ডি কক, রায়ান রিকলটন এবং ডেভিড মিলার ছিলেন ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। সেই কারণেই টিম ম্যানেজমেন্ট এমন একজন স্পিনারকে বেছে নিয়েছিল, যিনি পাওয়ার প্লে-তে বল করতে পারেন এবং শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম।
রায়ানের কথায়, “বিষয়টা এতটা সহজ নয়। আমাদের বিশ্লেষণে মনে হয়েছে ডি’কক, রিকলটন এবং মিলারই দলের জন্য় বড় বিপদ হতে পারেন। যখন দু’জনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হয়, তখন আমরা এমন কাউকে চেয়েছিলাম, যে পাওয়ার প্লে-তে বল করতে পারবে। অক্ষর মাঝে মাঝে প্রথম ছয় ওভারে বল করে ঠিকই, কিন্তু আমরা মনে করি ওয়াশিংটন কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।” তবে মাঠে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। ওয়াশিংটন সুন্দর দুই ওভারে ১৭ রান দিলেও কোনও উইকেট নিতে পারেননি। বরুণ চক্রবর্তী চার ওভারে ৪৭ রান দেন এবং মাত্র একটি উইকেট পান। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা বড় রান করতে সক্ষম হয়।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটাই ছিল ভয়াবহ। ঈশান কিষাণ শূন্য এবং তিলক ভার্মা মাত্র ১ রান করে আউট হন। পাওয়ার প্লে-র শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩১। মাঝের দিকে শিবম দুবে ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেললেও, তা দলের জন্য় যথেষ্ট ছিল না। ফলে ম্যাচটি কার্যত হাতের বাইরে চলে যায় ভারতের। এই হারের ফলে টানা ১২ ম্যাচ জয়ের ধারা থেমে গেল ভারতের। দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কৌশলগত ভাবনাচিন্তা করেই ওয়াশিংটনকে দলে নেওয়া হয়েছিল। এখন দেখার, পরের ম্যাচে দলে কোনও পরিবর্তন আনা হয় কি না।