
কলকাতা: আমেদাবাদে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পরও, উচ্ছ্বাসের মাঝেই ভবিষ্যতের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলল ভারতীয় দল। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবার তাঁদের লক্ষ্য ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলিস অলিম্পিকে ক্রিকেটে সোনা জেতা। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর, সাংবাদিক বৈঠকে সূর্যকুমার বলেন, “দলের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য অপেক্ষা করছে। পরবর্তী লক্ষ্য অলিম্পিকের সোনা এবং সেই বছরই আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটা ভুলে গেলে চলবে না।” ২০২৪ সালে বার্বাডোজে বিশ্বকাপ জয়ের পরই, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। এরপর ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান সূর্যকুমার যাদব। প্রশ্ন উঠছিল, নতুন অধিনায়ক কি আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের পর দায়িত্ব ছাড়বেন? তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে সূর্যকুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আগামী মরসুমেও ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে চান।
পরিসংখ্যান বলছে, সূর্যকুমারের অধিনায়কত্বে ভারতের পারফরম্যান্স বেশ শক্তিশালী। এখন পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে ৫২টি ম্যাচ খেলেছে ভারত। যার মধ্যে ৪২টিতেই জয় এসেছে ভারতের। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে সূর্যকুমারের ব্যক্তিগত ফর্ম আগের মতো ধারালো নয়, তবু তাঁর নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়ে দলের ভিতরে ও বাইরে প্রশংসা রয়েছে। এদিকে আবারও ক্রিকেট ফিরতে চলেছে অলিম্পিকের মঞ্চে। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলিস অলিম্পিকে ১২৮ বছর পর আবার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এই খেলা। সেখানে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই হবে প্রতিযোগিতা। পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই অংশ নেবে ছয়টি করে দল। প্রতিটি বিভাগে মোট ৯০ জন ক্রিকেটার খেলবেন। যদিও যোগ্যতা অর্জনের পদ্ধতি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমান আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, যদি র্যাঙ্কিং ভিত্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে এশিয়া থেকে ভারতের সুযোগ প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল।
বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতি প্রসঙ্গে সূর্যকুমার বলেন, এই সাফল্যের গুরুত্ব এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি তিনি। তার কথায়, “এই অনুভূতিটা ঠিকমতো বুঝতে একটু সময় লাগবে। আমরা এখনই একটা ম্যাচ শেষ করে বেরিয়েছি। ঘরের মাঠে খেলেছি, ভালো ম্যাচ হয়েছে। আগামীকাল যখন বাড়ি ফিরব, তখন হয়তো এই সাফল্যের গুরুত্বটা আরও ভালোভাবে অনুভব করব।” তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর গত দুই বছরের যাত্রা ছিল অসাধারণ। দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলই এই ট্রফি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার অলিম্পিকের সোনার দিকেই নজর রাখছে ভারতীয় দল।