
কলকাতা: বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের গ্রুপ বি-র ম্যাচে শনিবার মুখোমুখি হচ্ছে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। এই ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডার। বিশেষ করে পাকিস্তানের স্পিনারদের তারা কতটা সামলাতে পারছে, তার উপর নির্ভর করবে জেতা-হারা। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে কিউয়িদের হয়ে ধারাবাহিকভাবে ছন্দে রয়েছেন ওপেনার টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালান। দু’জনে মিলিয়ে করেছেন তিনটি হাফসেঞ্চুরি। তবে মিডল অর্ডারে গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেলের মতো ব্যাটাররা হতাশ করেছেন। রাচিন চার ম্যাচে করেছেন ৭২ রান। যার মধ্যে ৫৯ এসেছে এক ম্যাচেই। বাকি ম্যাচে কার্যত ব্যর্থ। ফিলিপসের একটি হাফসেঞ্চুরি থাকলেও ধারাবাহিকতা নেই। ফলে পাওয়ার প্লে-তে ঝড় তোলার পর মাঝের ওভারে আর রান তুলতে পারছে না নিউজিল্যান্ডের। কিউয়িদের এই দুর্বলতা কিন্তু পাকিস্তানের নোটবুকে জায়গা করে নিয়েছে।
কলম্বোতে এই প্রথম খেলতে নামছে নিউজিল্যান্ড। ফলে পরিবেশ, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে তাঁদের। এ দিকে পাকিস্তান শুরু থেকেই কলম্বোতে খেলছে। ধীরগতির এই পিচে স্পিনাররা কতটা কার্যকর ভূমিকা নেবেন, তা ভালোভাবেই জানে পাকিস্তান। বিশেষ করে উসমান তারিক, আবরার আহমেদ, সাইম আইয়ুব, মহম্মদ নওয়াজ ও শাদাব খানের স্পিন আক্রমণ ম্যাচে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। তবে পাকিস্তানেরও চিন্তা কম নেই। ব্যাটিংয়ে সাহিবজাদা ফারহান ২২০ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হলেও বাবর আজম ফর্মে নেই। যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দলের। ৪ ম্যাচে মাত্র ৬৬ রান করেছেন। বাবরের বদলে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফখর জামানকে খেলানোর কথা ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। শাদাব ৮৮ রান করে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। তবে কিউয়িদের বিরুদ্ধে টিম গেম চাইছে গ্রিন আর্মি।
পেস আক্রমণেও দুই দলেরই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শাহিন শাহ আফ্রিদির ইকোনমি ১১.২২। দলের সেরা বোলারের এমন পারফরম্যান্সে অখুশি টিম ম্যানেজমেন্ট। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাঁকে খেলানোও হয়নি। বিশ্রাম নিয়ে দলে ফিরে সেরাটা দিতে পারবেন কিনা, সে দিকে নজর রয়েছে। উল্টো শিবিরেরও অস্বস্তি কম নেই। লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, জ্যাকব ডাফি ও জেমস নিশামও ছন্দ খুঁজে বেড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রায় ১৭০-১৮০ রানের লড়াই হতে পারে এই ম্যাচে। পাকিস্তানের স্পিন নাকি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং, কোনটি হবে সুপার এইটের প্রথম সাফল্য়?