Fifa World Cup 2026, Aymen Hussain: বাস্তবের ‘মাই নেম ইজ খান’, আমেরিকায় চরম হেনস্থার শিকার ইরাকের তারকা ফুটবলার আয়মান হুসেন!
Aymen Hussain: ১৯৮৬-২০২৬, প্রায় চার দশক পর আবার বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) মঞ্চে ফিরল ইরাক ফুটবল দল (Iraq Football Team)। আসন্ন বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে দেখা যাবে তাদের। বিশ্বকাপে দলকে কোয়ালিফাই করার জন্য একটা বড় ভূমিকা নিয়েছেন আয়মান। দেশের জার্সিতে প্রায় ৩৩ গোল করেছেন আয়মান।

কলকাতা : প্রায় ১৫ বছর আগে একটি সিনেমা রিলিজ হয়েছিল ভারতবর্ষে, নাম ‘মাই নেম ইজ খান’ (My Name Is Khan)। শাহরুখ-কাজল অভিনীত সেই সিনেমায় একটি ডায়লগ দিয়েছিলেন শাহরুখ (Shahrukh Khan), পর্দার ‘রিজওয়ান’ – “মাই নেম ইজ খান, অ্যান্ড আই অ্যাম নট আ টেররিস্ট।” ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই সিনেমার প্রেক্ষাপট আমেরিকা (USA) ও টুইন টাওয়ার ধ্বংস। কিন্তু দেখুন, প্রায় ১৫ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও কিছুতেই বদলাল না আমেরিকার মাইন্ডসেট। আবার জঙ্গি সন্দেহ, আবার আমেরিকা। এবার প্রায় ৭ ঘন্টা আটকে রাখা হল ইরাকের জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন আয়মান হুসেনকে (Aymen Hussain)।
১৯৮৬-২০২৬, প্রায় চার দশক পর আবার বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) মঞ্চে ফিরল ইরাক ফুটবল দল (Iraq Football Team)। আসন্ন বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে দেখা যাবে তাদের। বিশ্বকাপে দলকে কোয়ালিফাই করার জন্য একটা বড় ভূমিকা নিয়েছেন আয়মান। দেশের জার্সিতে প্রায় ৩৩ গোল করেছেন আয়মান। আসন্ন বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে দেখা যাবে তাদের। কিন্তু বিশ্বকাপের এই আবহেই আবার বিতর্কে আমেরিকা। শনিবার মার্কিন মুলুকে নেমেছিল ইরাক দল। দলের সদস্যরা নেমেছিলেন শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে। কিন্তু নামার পরেই তাঁর সঙ্গে কার্যত সন্ত্রাসবাদী-র মতো আচরণ শুরু করে আমেরিকা। স্কোয়াডের বাকি সবাইকে ছেড়ে দিলেও ছাড়া হয়নি আয়মানকে। একটি আলাদা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ করা। ইরাকের কর্তারা নিজেদের যাবতীয় পরিচিতি কাজে লাগিয়ে আয়মনকে ছাড়াতে গিয়েও পারেননি। অপেক্ষা করে করে শেষে হোটেলে চলে যান বাকি সদস্যরা। প্রায় ৭ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে মুক্তি দেওয়া হয় আয়মানকে।
এই আটক করা নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি প্রশাসন। তবে ইরাক দলের সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, এক পরিচিত সন্ত্রাসবাদীর নামের সঙ্গে মিল আছে আয়মানের। তাই তাঁকে আটক করেছিল মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু বিষয় হল, আসলে আয়মান নিজেই সন্ত্রাসের শিকার। তাঁর বাবা নিজেই ইরাকের সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় আল-কায়দার একটি হামলায় নিহত হন তিনি। ২০১৪ সালে তাঁর ভাইকে আইএসআইএস অপহরণ করেছিল কিন্তু এখনও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার ফলে আয়মান নিজেই তাঁর দেশে ভিটে হীন হয়ে যান। যদিও, সন্ত্রাসের কোনও শেষ নেই। আমেরিকার ‘বাদবিচার’ না করেই, তথ্যাদি যাচাই না করেই যেভাবে ইরাকের জাতীয় দলের তারকা ফুটবলারকে হেনস্থা করা হল, তার দায় আমেরিকা নেবে না। কিন্তু এর ফলে একটা দিক পরিষ্কার হয়ে গেল বিশ্বের কাছে। সন্ত্রাস নিয়ে আমেরিকার কঠোর মনোভাব বিগত ১৫ বছরে এক শতাংশও বদলায়নি।
