
কলকাতা : গত বছরই ঘটেছে শাপমুক্তি। ১৭ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে আইপিএল নিজেদের ঘরে তুলেছেন বিরাট কোহলিরা। অধিনায়ক রজত পাতিদার প্রথমবার দায়িত্ব পেয়েই চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিয়েছেন দলকে। যা নিয়ে খুশির অন্ত নেই সমর্থকদের মধ্যে। প্রতি বছরই আরসিবিকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ থাকে ভক্তদের মধ্যে। গত ১৮ বছরে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বিরাট কোহলি। ক্রিকেট বিশ্বের ‘কিং’ কোহলিকে টি-টোয়েন্টিতে ফর্মে দেখতে মুখিয়ে থাকে আসমুদ্রহিমাচল।
এখন অন্য কারণে চর্চায় আরসিবি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বিক্রির পথে। যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। তাদের বর্তমান মালিক ইউনাইটেড স্পোর্টস লিমিটেড, বিশ্বখ্যাত সংস্থা ডিয়াজিওর অধীনস্থ। তারা দলটির মালিকানা বদল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, গত বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের দিন চিন্নাস্বামীতে উদযাপন করতে গিয়ে প্রাণ হারান ১১ জন সমর্থক। যে ঘটনার পর থেকেই মালিকানা বদলের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়াজিও। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে কনফিডেন্সিয়াল ইনফরমেশন মেমোরেন্ডাম (CIM) অর্থাৎ একটি কোম্পানি বিক্রির নিয়মানুবলি পাঠিয়েছে। যার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিরাটদের টিমের মালিকানার হাতবদল আসন্ন। এই CIMএ আর্থিক হিসাব, ব্র্যান্ড ভ্যালু, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা লেখা থাকে। প্রাথমিক কথাবার্তার জন্য জরুরি একটি বিষয় হিসেবে গণ্য হয়।
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বিরাট কোহলিদের দলের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন আমেরিকান ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা। এই মূল্যের প্রধান কারণ অবশ্যই বিরাট কোহলির মতো সুপারস্টার ক্রিকেটারের দলে থাকা। এবং তাঁদের গত বছর আইপিএল ট্রফি জয়। এই বিক্রয়ের জন্য সিটি গ্ৰুপকে মূল উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছে ডিয়াজিও। আগামী মার্চের মধ্যেই এই আলোচনা শেষ করতে চায় তারা। উল্লেখ্য, মার্চ মাসের ২৬ তারিখ শুরু হবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। তার আগে এই মালিকানা বদল যথেষ্ট চর্চায় রাখবে আরসিবিকে।
এই হাতবদল নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহী বেশ কয়েকজন বড় লগ্নিকারীর নাম। একদিকে যেমন শোনা যাচ্ছে আদর পুনাওয়ালার নাম। তেমনই চর্চায় রয়েছেন কোহলি ঘরণী অনুষ্কা শর্মা এবং রণবীর কাপুর। যদিও রণবীর আগেই আইএসএল-এর দল মুম্বই সিটি এফসির মালিকানা নিয়ে রেখেছেন। মূলত গতবারের দুর্ঘটনাই কোহলিদের বিনিয়োগকারী সংস্থার হাতবদলের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যা কোম্পানির ভাবমূর্তি ও ব্র্যান্ড ভ্যালু নষ্ট করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে , আরসিবির ভাগ্যাকাশে এখন মালিকানা বদলের প্রশ্নচিহ্ন।