
কম দামি, বেশি দামি – সব মিলিয়ে বাজারে এখন স্মার্টফোনে ছয়লাপ। অনেক কিছু যাচাই করে, অনেক দিক বিচার করে এখন একটা স্মার্টফোন কিনি আমরা। কেমন ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে, কী প্রসেসর রয়েছে, ব্যাটারি কেমন, ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে কি না, এই সব কিছুই একটা ভাল স্মার্টফোনের নির্ণায়ক। কিন্তু এ সবের মধ্যেই এমন অনেক বিষয় লুকিয়ে রয়েছে, যা আপনি জানেন না। ঠিক যেমন, স্মার্টফোনের প্রসেসর (Smartphone Processor)। স্মার্টফোনের প্রসেসর কী, কীভাবে কাজ করে এটি, এসব কি জানতেন? একটা ফোনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রসেসর বা চিপসেট (Chipset)। সেই প্রসেসর সম্পর্কেই যাবতীয় খুটিনাটি তথ্য এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
স্মার্টফোনের প্রসেসর কী?
স্মার্টফোনের প্রসেসরকে চিপসেটও বলা হয়। আপনার স্মার্টফোনে যা কিছু চলছে তা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফোনটি সঠিক ভাবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করে একটা চিপসেট। খুব সহজ ভাষায় স্মার্টফোনের প্রসেসর বা চিপসেটের সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের তুলনা করা যেতে পারে। আপনার স্মার্টফোনে যাই কাজ করছেন, তাই সরাসরি চলে যায় প্রসেসরে। আপনার করা সেই কাজগুলি পরবর্তীতে আপনার স্ক্রিনে ভিজ্যুয়াল পরিবর্তনে রূপান্তরিত হয়। সেকেন্ডের মধ্যেই এই পুরো কর্মকাণ্ডটা ঘটে। বেশ মজাদার ব্যাপার, তাই না?
একটা স্মার্টফোনের প্রসেসর কীভাবে কাজ করে?
উদাহরণস্বরূপ, একটা অ্যাপ থেকে আপনি কয়েকটা ছবি খুলছেন। প্রসেসর এই কাজটি রেজিস্টার করছে এবং তা সংরক্ষিত হচ্ছে আপনার ডিভাইসের মেমোরিতে। এটাকে ‘ফেচ ফেজ়’ বলা হয়। ডিকোড ফেজ়ে এই ক্রিয়াটিই এক এবং শূন্যে অনুবাদ করা হয়। আপনার স্মার্টফোন বুঝতে পারে এমন একটি ভাষায় সংরক্ষিত হয় এই নির্দেশাবলী। তারপর তা এগজ়িকিউট ফেজ়ের জন্য প্রস্তুত হয়। এবার প্রসেসরটি এক এবং শূন্য প্রেরণ করে ও আপনি সেগুলিকেই ফোনের পর্দায় দেখতে পান। অর্থাৎ ঘটনাটি ঘটছে। এবার আপনার ছবি খুলে যায়। পরিশেষে, এগজ়িকিউট হওয়া নির্দেশাবলী সেভ ফেজ়ে রেজিস্টার মেমোরিতে সেভ হয়। তারপরে প্রক্রিয়াটি পুনরায় চালু হয়।
প্রসেসরের গতি কে নির্ধারণ করে?
যে গতিতে একটা প্রসেসর নির্দিষ্ট কাজ প্রসেস করে, তার নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপরে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সেই প্রসেসরে কতগুলি কোর রয়েছে। ক্লক স্পিডও এক্ষেত্রে খুব জরুরি একটা ফ্যাক্টর। কম ক্লক স্পিডের প্রসেসর এবং কিছু ক্ষেত্রে কম সংখ্যক প্রসেসর কোর অপেক্ষাকৃত ধীরে কাজ করে একটা হাই ক্লক স্পিড এবং বড় সংখ্যক প্রসেসর কোরের তুলনায়। এখানেই একটা কম দামের স্মার্টফোনের সঙ্গে বেশি দামের স্মার্টফোনের মূল ফারাক। যত কম দামের ফোন, তত তার গতি কম। আর যত দামি ফোন, তার গতি তত বেশি। প্রসেসর এখানে কীরকম মুখ্য ভূমিকা পালন করে, সেটাই আসল বিষয়। যা আমাদের সহজে বোধগম্য হওয়ার কথা নয়।
ক্লক স্পিড
ক্লক স্পিডের অর্থ হল, প্রতি সেকেন্ডে একটা প্রসেসর ঠিক কতগুলি নির্দেশ এগজ়িকিউট করতে পারে। একটা প্রসেসর যার ক্লক স্পিড 1 গিগাহার্ৎজ় (Ghz), সেটি প্রতি সেকেন্ডে 1 বিলিয়ন নির্দেশাবলী প্রসেস করতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মটি হল, দ্রুতগামী ফোনের জন্য উচ্চতর ক্লক স্পিড দেওয়া হয়। তাই, সেই সব ফোনের দামটাও হয় বেশি। সস্তার ফোনের থেকে দামি ফোনের প্রসেসর কোরে থাকে উচ্চতর ক্লক স্পিড। পাশাপাশি আপনার ফোনে কতগুলি প্রসেসর কোর রয়েছে, তার উপরে নির্ভর করে ফোনের স্পিড।
প্রসেসর কোর
একটা প্রসেসরকে সিপিইউ বলা হয়, যাতে একাধিক কোর থাকে: ডুয়াল, কোয়াড, হেক্সা এবং অক্টা কোর। এই কোরগুলির কাজ ঠিক কী? আপনি ফোন ব্যবহারের সময় যে কাজগুলি আসে, তা বিতরণ করে প্রসেসর কোরগুলি। একটি কোরে সর্বাধিক সংখ্যক নির্দেশ রয়েছে যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া করতে পারে। আপনি যদি আপনার স্মার্টফোনে অনেকগুলি অ্যাকশন সঞ্চালন করেন, তাহলে একটি কিউ বা সারি তৈরি হবে। যদি এই সারিটি খুব দীর্ঘ হয়, তবে এর কিছু অংশ পরবর্তী কোরে যাবে। এটি নিশ্চিত করে যে, আপনার স্মার্টফোনটি মসৃণভাবে কাজ করবে।
বিষয়টা কী দাঁড়াল
আপনার স্মার্টফোনের প্রসেসর হল সেই উপাদান যা আপনার সমস্ত ক্রিয়াকে স্ক্রিনে ভিজ্যুয়াল পরিবর্তনে রূপান্তর করে। কোরের সংখ্যা এবং একটি নির্দিষ্ট ক্লক স্পিডের জন্য এমনটা করতে পারে একটা প্রসেসর। কোরের সংখ্যা নিশ্চিত করে যে, ক্রিয়াগুলি সর্বদা সময়মত প্রক্রিয়াকরণ করছে। প্রতি সেকেন্ডে কতটা নির্দেশনা কার্যকর করা যেতে পারে তা নির্ধারণ করে ক্লক স্পিড। ক্লক স্পিড যত বেশি, স্মার্টফোন তত দ্রুত। ভাল স্মার্টফোন, ভাল প্রসেসরের বিষয়ে আমাদের পরামর্শ: শুধু কোরের পরিমাণ নয়, ক্লক স্পিডেও নজর দিন।