BUDGET 2023: ‘এত পড়াশোনা করেও একটা ভাল চাকরি পেলাম না’, নির্মলাকে খোলা চিঠি এক গিগ কর্মীর

Jan 25, 2023 | 6:10 PM

Union Budget 2023: উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা রাকেশ। তিনি একজন গিগ কর্মী। সুইগি, জোম্যাটোর খাবার ডেলিভার করেন তিনি। তাঁদের মতো কর্মীদের জন্য বিমা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের খুবই প্রয়োজন। সেই কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে চিঠি লিখলেন তিনি।

Follow Us

নমস্কার ম্যাডাম,

আমি রাকেশ, উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের বাসিন্দা। তবে এখন আমি মুম্বইয়ের ধারাভিতে থাকি। আমি বিএ গ্র্যাজুয়েট। আমার গ্রামের কয়েকজন যুবক মুম্বইয়ে কাজ করে। তাদের সাহায্যে আমি এই শহরে এসেছি। এখন আমি জোম্যাটোর ডেলিভারি বয়ের কাজ করি। আগে আমি সুইগিতে এই কাজ করতাম। তার আগে ওলা-উবরেও কাজ করেছি। বারবার পেশা বদল করতে মোটেই ভালো লাগে না। কিন্তু কী করব বলুন! আমাদের মতো লোকজনের জন্য কাজের সুযোগ খুব কম। কখনও এখানে তো কখনও সেখানে। তিন বছর হল আমি মুম্বইতে এসেছি। এর মধ্যে দশবার কাজ বদল করতে হয়েছে। কী আর করব বলুন। যে করেই হোক বেঁচে থাকতে হবে যে।

এছাড়াও আমি এসি ও ওয়াশিং মেশিন মেরামত করি। প্রায় ৬ মাস আর্বান কোম্পানিতে কাজও করেছি। ছুটিতে বিশ্রাম বলে আমাদের জীবনে কিছু নেই। রোজই কাজে বেরোতে হয়।

গতকাল মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে খাবার ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমার বাইক পিছলে যায়। আমার পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা লাগে। আজকে আর আমি কাজে বেরোতে পারিনি। তাই মজুরিও পাব না। এদিকে, হাতে যেটুকু টাকা জমানো ছিল তা ওষুধ কিনতে গিয়ে শেষ হয়ে গিয়েছে। দুঃখের কথা আপনাকে আর কী বলব! আমি মোবাইলে রোজ ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাক ভরিয়েছি। সেটাও শেষ। বিছানায় পড়ে আছি। তাই ভাবলাম সবটা আপনাকে লিখে জানাই।

বাজেট আসছে। সরকার হয়তো আমার মতো মানুষের কষ্ট বুঝতে পারবে। ম্যাডাম, এটা ভেবেই আমার সবথেকে খারাপ লাগে যে, এত পড়াশোনা করেও আমি একটা চাকরি পর্যন্ত পেলাম না। আর চাকরি পেলেও তা অনিশ্চয়তায় ভরা। অন্যরা আট-ন’ ঘণ্টা কাজ করে। আর আমাদের কাজ করতে হয় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। আমি কঠোর পরিশ্রম করতে ভয় পাই না। কিন্তু হাড় ভাঙা খাটুনির বিনিময়ে যেন ঠিকঠাক বেতনটুকু দেওয়া হয়। ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করি আমি। আর মাসে ৩০ দিনই কাজ করতে পারব, এটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। আর যদি ২০ থেকে ২২ দিন কাজ করি তাহলে মাত্র ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতে আসে। আর সেই টাকায় মুম্বইয়ের মতো শহরে বেঁচে থাকা খুবই কষ্টসাধ্য।

ম্যাডাম, ইনসিওরেন্স থাকাটা কত জরুরি, এখন তা আমরা বুঝতে পারি। যাঁরা স্থায়ী চাকরি করেন তাঁরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঙ্গে মেডিক্যাল ও অ্যাক্সিডেন্টাল ইনসিওরেন্সের সুবিধাও পান। কিন্তু আমাদের কোম্পানি বা সরকার, কেউই আমাদের কথা ভাবে না।

আপনি হয়তো ভাবছেন, বৃষ্টির মধ্যে বেরনো আমার ঠিক হয়নি। বৃষ্টি থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত ছিল। কিন্তু দেরি হলে যে কাস্টমারের কটূক্তি শুনতে হয়। তাই ট্রাফিক জ্যাম হলেও, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা গাড়ি চালাই। কোম্পানি মুনাফা করছে, আর সরকার কর থেকে আয় করছে। আপনারা কী খাবেন সেই ভেবে আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে এমনকী ধর্মঘট পর্যন্ত করতে পারি না। অনেকে বলেন ওলাতে গাড়ি চালানো ভাল। অনেকে আবার বলেন, উবর ভাল। দু’জায়গাতেই চালিয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ওলা বা উবর, সব জায়গাতেই পরিস্থিতি এক।

ম্যাডাম, আমি কোনওরকমে অ্যাডজাস্ট করে আছি। আমার স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে রেখে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমার ছোট্ট মেয়ে গ্রামেরই স্কুলে পড়ে। গ্রামে টাকা পাঠানোর জন্য আমরা এখানে চারজন একসঙ্গে একটা ছোট ঘরে গুঁতোগুঁতি করে থাকি। তবুও সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে পারি। যেটুকু টাকা সঞ্চয় করি তাতে মেয়েকে ভালভাবে বড় করতে পারবো কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

আপনি যদি বাজেটে আমাদের প্রতি একটু সদয় হন, আমাদের জন্য বিমা, বিনামূল্যে চিকিৎসার মতো ব্যবস্থা করেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকব। এছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো কিছু পদক্ষেপ সরকার করে তাহলে আমাদের একটু সুরাহা হয়।

ম্যাডাম, এই চিঠি শেষ পর্যন্ত যদি আপনার কাছে পৌঁছয় তাহলে প্লিজ ভেবে দেখবেন। আমার মতো লাখ লাখ রাকেশ আপনার গুণকীর্তন করবে। আপনার মুখের দিকে আমরা অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছি।

ধন্যবাদান্তে
রাকেশ

নমস্কার ম্যাডাম,

আমি রাকেশ, উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের বাসিন্দা। তবে এখন আমি মুম্বইয়ের ধারাভিতে থাকি। আমি বিএ গ্র্যাজুয়েট। আমার গ্রামের কয়েকজন যুবক মুম্বইয়ে কাজ করে। তাদের সাহায্যে আমি এই শহরে এসেছি। এখন আমি জোম্যাটোর ডেলিভারি বয়ের কাজ করি। আগে আমি সুইগিতে এই কাজ করতাম। তার আগে ওলা-উবরেও কাজ করেছি। বারবার পেশা বদল করতে মোটেই ভালো লাগে না। কিন্তু কী করব বলুন! আমাদের মতো লোকজনের জন্য কাজের সুযোগ খুব কম। কখনও এখানে তো কখনও সেখানে। তিন বছর হল আমি মুম্বইতে এসেছি। এর মধ্যে দশবার কাজ বদল করতে হয়েছে। কী আর করব বলুন। যে করেই হোক বেঁচে থাকতে হবে যে।

এছাড়াও আমি এসি ও ওয়াশিং মেশিন মেরামত করি। প্রায় ৬ মাস আর্বান কোম্পানিতে কাজও করেছি। ছুটিতে বিশ্রাম বলে আমাদের জীবনে কিছু নেই। রোজই কাজে বেরোতে হয়।

গতকাল মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে খাবার ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমার বাইক পিছলে যায়। আমার পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা লাগে। আজকে আর আমি কাজে বেরোতে পারিনি। তাই মজুরিও পাব না। এদিকে, হাতে যেটুকু টাকা জমানো ছিল তা ওষুধ কিনতে গিয়ে শেষ হয়ে গিয়েছে। দুঃখের কথা আপনাকে আর কী বলব! আমি মোবাইলে রোজ ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাক ভরিয়েছি। সেটাও শেষ। বিছানায় পড়ে আছি। তাই ভাবলাম সবটা আপনাকে লিখে জানাই।

বাজেট আসছে। সরকার হয়তো আমার মতো মানুষের কষ্ট বুঝতে পারবে। ম্যাডাম, এটা ভেবেই আমার সবথেকে খারাপ লাগে যে, এত পড়াশোনা করেও আমি একটা চাকরি পর্যন্ত পেলাম না। আর চাকরি পেলেও তা অনিশ্চয়তায় ভরা। অন্যরা আট-ন’ ঘণ্টা কাজ করে। আর আমাদের কাজ করতে হয় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। আমি কঠোর পরিশ্রম করতে ভয় পাই না। কিন্তু হাড় ভাঙা খাটুনির বিনিময়ে যেন ঠিকঠাক বেতনটুকু দেওয়া হয়। ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করি আমি। আর মাসে ৩০ দিনই কাজ করতে পারব, এটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। আর যদি ২০ থেকে ২২ দিন কাজ করি তাহলে মাত্র ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতে আসে। আর সেই টাকায় মুম্বইয়ের মতো শহরে বেঁচে থাকা খুবই কষ্টসাধ্য।

ম্যাডাম, ইনসিওরেন্স থাকাটা কত জরুরি, এখন তা আমরা বুঝতে পারি। যাঁরা স্থায়ী চাকরি করেন তাঁরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঙ্গে মেডিক্যাল ও অ্যাক্সিডেন্টাল ইনসিওরেন্সের সুবিধাও পান। কিন্তু আমাদের কোম্পানি বা সরকার, কেউই আমাদের কথা ভাবে না।

আপনি হয়তো ভাবছেন, বৃষ্টির মধ্যে বেরনো আমার ঠিক হয়নি। বৃষ্টি থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত ছিল। কিন্তু দেরি হলে যে কাস্টমারের কটূক্তি শুনতে হয়। তাই ট্রাফিক জ্যাম হলেও, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা গাড়ি চালাই। কোম্পানি মুনাফা করছে, আর সরকার কর থেকে আয় করছে। আপনারা কী খাবেন সেই ভেবে আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে এমনকী ধর্মঘট পর্যন্ত করতে পারি না। অনেকে বলেন ওলাতে গাড়ি চালানো ভাল। অনেকে আবার বলেন, উবর ভাল। দু’জায়গাতেই চালিয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ওলা বা উবর, সব জায়গাতেই পরিস্থিতি এক।

ম্যাডাম, আমি কোনওরকমে অ্যাডজাস্ট করে আছি। আমার স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে রেখে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমার ছোট্ট মেয়ে গ্রামেরই স্কুলে পড়ে। গ্রামে টাকা পাঠানোর জন্য আমরা এখানে চারজন একসঙ্গে একটা ছোট ঘরে গুঁতোগুঁতি করে থাকি। তবুও সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে পারি। যেটুকু টাকা সঞ্চয় করি তাতে মেয়েকে ভালভাবে বড় করতে পারবো কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

আপনি যদি বাজেটে আমাদের প্রতি একটু সদয় হন, আমাদের জন্য বিমা, বিনামূল্যে চিকিৎসার মতো ব্যবস্থা করেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকব। এছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো কিছু পদক্ষেপ সরকার করে তাহলে আমাদের একটু সুরাহা হয়।

ম্যাডাম, এই চিঠি শেষ পর্যন্ত যদি আপনার কাছে পৌঁছয় তাহলে প্লিজ ভেবে দেখবেন। আমার মতো লাখ লাখ রাকেশ আপনার গুণকীর্তন করবে। আপনার মুখের দিকে আমরা অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছি।

ধন্যবাদান্তে
রাকেশ

Next Video