Pakistan Military: মৃত্যুর পর মৃত্যুর-পর-সামান্য-সম্মাসামান্য সম্মানটুকুও জোটে না পাক সেনাদের!
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তাঁর বক্তব্য, “আমেরিকা দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানকে টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করেছে।” এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক ও পাক রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই বক্তব্যের আড়ালে চাপা পড়ে যায় একই বক্তৃতায় বলা আরও এক গুরুত্বপূর্ণ কথা। সেখানে খোয়াজা আসিফ স্বীকার করেন, পাকিস্তানের সেনারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিহত হলেও তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয় না। তাঁর কথায়, “আমাদের সেনারা শহিদ হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর পর সেনা কর্তারা বা রাজনীতিকরা পর্যন্ত অন্ত্যেষ্টিতে যান না। এটা আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে।”
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তাঁর বক্তব্য, “আমেরিকা দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানকে টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করেছে।” এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক ও পাক রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই বক্তব্যের আড়ালে চাপা পড়ে যায় একই বক্তৃতায় বলা আরও এক গুরুত্বপূর্ণ কথা। সেখানে খোয়াজা আসিফ স্বীকার করেন, পাকিস্তানের সেনারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিহত হলেও তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয় না। তাঁর কথায়, “আমাদের সেনারা শহিদ হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর পর সেনা কর্তারা বা রাজনীতিকরা পর্যন্ত অন্ত্যেষ্টিতে যান না। এটা আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে।”
এই মন্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তানের সেনা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে। বাস্তবে পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্র ইসলামাবাদ নয়, রাওয়ালপিন্ডি। সেনা সদর দপ্তর থেকেই দেশ পরিচালিত হয়, এমনটাই দীর্ঘদিনের ধারণা। কিন্তু সেই সেনাবাহিনীর নীচুতলার জওয়ানদের অবস্থান যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, তা কার্যত স্বীকার করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজেই। বালুচিস্তান, খাইবার-পাখতুনখোয়া এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের নিহত হওয়ার খবর নিয়মিত এলেও সরকারিভাবে তা স্বীকার করা হয় না। কারণ হিসেবে ধরা হয়, সেনার ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিলে বাহিনীর ভাবমূর্তি ও শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। খোয়াজা আসিফের বক্তব্যে সেই অস্বস্তিকর সত্যই সামনে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই প্রসঙ্গে নতুন করে উঠে এসেছে কার্গিল যুদ্ধ-এর প্রসঙ্গ। ১৯৯৯ সালে কার্গিলে পাকিস্তানি সেনা নিহত হলেও ইসলামাবাদ তখন তা অস্বীকার করেছিল। ভারতের তরফে নিহত পাক সেনাদের দেহ সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব এলেও, পাকিস্তান সরকার দেহ নিতে অস্বীকার করে। সরকারি অবস্থান ছিল, কার্গিলে পাকিস্তানি সেনা ছিল না, সেখানে তথাকথিত ‘ফ্রিডম ফাইটার’-দের সঙ্গে ভারতীয় সেনার লড়াই চলছে।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মহলে স্পষ্ট হয়, কার্গিলে পাকিস্তানি সেনার সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল এবং সেই যুদ্ধে শতাধিক পাক সেনা প্রাণ হারান। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রায় এক দশক পরে ২০১০ সালে পাকিস্তান সেনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে কার্গিল যুদ্ধে নিহত সেনাদের ‘শহিদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নাম প্রকাশ করা হয়।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, যে সেনাদের শহিদ বলে মানা হলো, তাঁদের দেহ কেন মৃত্যুর সময় নিজ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হয়নি? সেই জবাব আজও মেলেনি। ট্রয়ের যুবরাজ হেক্টরকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে হারিয়ে, তাঁর মৃতদেহ রথে বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে গিয়েছিলেন অ্যাকিলিস। সেই পাপে সেরা যোদ্ধা হয়েও সামান্য গোড়ালিতে তির খেয়ে অ্যাকিলিসকে মরতে হয়। পাকিস্তানকে কে শেখাবে, অপারেশন সিঁদুরে জঙ্গি মরলে এরা গিয়ে কফিনে কাঁধ দেয়। আর, সীমান্তে নিজের সেনা মরলে ফিরেও তাকায় না। দেশটার নগ্ন চেহারাটাই আরেকবার সামনে এল আর কী।
