Pentagon Pizza Index: পেন্টাগনে পিৎজার অর্ডার বাড়লেই ঘটে যায় ‘বড় ঘটনা’! হতে পারে যুদ্ধও?

| Edited By: Purvi Ghosh

Feb 14, 2026 | 8:28 PM

বিশিষ্ট মার্কিন সাংবাদিক Wolf Blitzer-কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, নতুন যারা সাংবাদিকতায় আসছেন তাঁদের জন্য তাঁর পরামর্শ কী। ব্লিটজারের জবাব ছিল সংক্ষিপ্ত, পিৎজা কেমন বিক্রি হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখুন। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্দরে এর আলাদা তাৎপর্য আছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলা হয়েছিল, Iran ও United States-এর মধ্যে উত্তেজনা চরমে। Strait of Hormuz-এ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে ইরান। কাছেই Gulf of Oman-এ অবস্থান করছে একাধিক মার্কিন রণতরী। এদিকে মঙ্গলে ইরানের মহড়া থেকে একটি ড্রোন আচমকা মার্কিন এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিঙ্কনের সামনে চলে আসে। সেটিকে গুলি করে নামায় মার্কিন সেনা।

বিশিষ্ট মার্কিন সাংবাদিক Wolf Blitzer-কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, নতুন যারা সাংবাদিকতায় আসছেন তাঁদের জন্য তাঁর পরামর্শ কী। ব্লিটজারের জবাব ছিল সংক্ষিপ্ত, পিৎজা কেমন বিক্রি হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখুন।

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্দরে এর আলাদা তাৎপর্য আছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলা হয়েছিল, Iran ও United States-এর মধ্যে উত্তেজনা চরমে। Strait of Hormuz-এ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে ইরান। কাছেই Gulf of Oman-এ অবস্থান করছে একাধিক মার্কিন রণতরী। এদিকে মঙ্গলে ইরানের মহড়া থেকে একটি ড্রোন আচমকা মার্কিন এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিঙ্কনের সামনে চলে আসে। সেটিকে গুলি করে নামায় মার্কিন সেনা।

তবে এই ঘটনায় পিৎজার বিক্রি বাড়েনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian-ও বলেছেন, সমতার ভিত্তিতে আলোচনা করতে তাঁদের আপত্তি নেই। উত্তেজনা কিছুটা কম থাকায় পিৎজার অর্ডারেও বাড়তি উল্লম্ফন দেখা যায়নি।

পিৎজার বিষয়টি একটু খোলসা করেই বলা যাক। ‘পেন্টাগন পিৎজা ইনডেক্স’। আমেরিকায় Pentagon হল মার্কিন সেনাবাহিনীর সদর দফতর। ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়ার মাঝে বয়ে গেছে Potomac River। সেই ভার্জিনিয়াতেই অবস্থিত পেন্টাগন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অফিস ভবন। এখানে কাজ করেন প্রায় ২৬ হাজার কর্মী। মার্কিন সেনা যখন কোনও বড় অভিযানে নামে, বা জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি হয়, তখন পেন্টাগনের কর্মীদের ছুটি বাতিল হয়ে যায়। টানা কয়েকদিন অফিসেই থাকতে হয় অনেককে। কাজের চাপে ক্যান্টিনে যাওয়ার সময় থাকে না। ডেস্কে বসে দ্রুত খাওয়ার জন্য পিৎজাই হয়ে ওঠে প্রথম পছন্দ। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেই পেন্টাগনের আশপাশে পিৎজার বিক্রি হু হু করে বাড়ে।

Cold War-এর সময়ে আমেরিকায় লুকিয়ে থাকা সোভিয়েত গুপ্তচরেরা প্রথম বিষয়টি খেয়াল করেন। এরপর থেকে পিৎজার দোকানগুলোর বিক্রির ওপর নজর রাখা হত। বিক্রি অস্বাভাবিক বাড়লেই খবর পাঠানো হত KGB-র সদর দফতরে, Moscow-এ। ধারণা করা হত, আমেরিকা বড় কোনও পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

সোভিয়েত পতনের পর মার্কিন বিশ্লেষকেরাই ‘পেন্টাগন পিৎজা ইনডেক্স’ নামে এই পর্যবেক্ষণকে জনপ্রিয় করেন। দাবি করা হয়, একাধিক আন্তর্জাতিক ঘটনার আগে এই সূচক মিলেছে। Saddam Hussein-এর কুয়েত আক্রমণের আগে, সার্বিয়ার ওপর নেটোর বোমাবর্ষণের আগে, 9/11-এর পর আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা পাঠানোর আগে, এমনকি আরব বসন্তের সময় Muammar Gaddafi-র পতনের আগেও। ঘটনার সাতদিনের মধ্যে পেন্টাগনে পিৎজার বিক্রি বেড়েছিল বলে দাবি করা হয়।