Spy Satellite: শুধু ISRO নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্পাই স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে এগোচ্ছে ভারতের বেসরকারি সংস্থাও
একটি সফল ক্রিকেট বা ফুটবল দল যেমন একজনের ব্যর্থতা অন্যজনের সাফল্যে ঢেকে দেয়, ভারতের মহাকাশ গবেষণাও কি এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নই সামনে আনছে। একদিকে ধারাবাহিক ধাক্কা খেয়েছে Indian Space Research Organisation (ইসরো)। ১২ জানুয়ারি উৎক্ষেপণের পর মুখ থুবড়ে পড়ে PSLV-C62 মিশন। মহাকাশে হারিয়ে যায় ১৫টি স্যাটেলাইট। এর মধ্যে ‘অন্বেষা’ উপগ্রহের হারিয়ে যাওয়া বড় ধাক্কা বলে জানিয়েছিলেন প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা। চিন ও পাকিস্তানের ওপর নজরদারির লক্ষ্যেই অন্বেষাকে পাঠানো হচ্ছিল। এর আগে গত বছরের ১৮ মে ব্যর্থ হয়েছিল PSLV-C61। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে পরপর দু’টি PSLV মিশনের ব্যর্থতা ইসরোর ইতিহাসে নজিরবিহীন।
একটি সফল ক্রিকেট বা ফুটবল দল যেমন একজনের ব্যর্থতা অন্যজনের সাফল্যে ঢেকে দেয়, ভারতের মহাকাশ গবেষণাও কি এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নই সামনে আনছে। একদিকে ধারাবাহিক ধাক্কা খেয়েছে Indian Space Research Organisation (ইসরো)। ১২ জানুয়ারি উৎক্ষেপণের পর মুখ থুবড়ে পড়ে PSLV-C62 মিশন। মহাকাশে হারিয়ে যায় ১৫টি স্যাটেলাইট। এর মধ্যে ‘অন্বেষা’ উপগ্রহের হারিয়ে যাওয়া বড় ধাক্কা বলে জানিয়েছিলেন প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা। চিন ও পাকিস্তানের ওপর নজরদারির লক্ষ্যেই অন্বেষাকে পাঠানো হচ্ছিল। এর আগে গত বছরের ১৮ মে ব্যর্থ হয়েছিল PSLV-C61। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে পরপর দু’টি PSLV মিশনের ব্যর্থতা ইসরোর ইতিহাসে নজিরবিহীন।
এই প্রেক্ষাপটে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের জন্য এল অন্য সাফল্য। বেসরকারি উদ্যোগে দেশ এখন অর্জন করেছে ‘ইন-অরবিট স্নুপিং’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ মহাকাশে নিজের কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট থেকে অন্য দেশের উপগ্রহের ওপর নজরদারির ক্ষমতা। স্পাই স্যাটেলাইট প্রযুক্তির দুনিয়ায় এটি বড়সড় অগ্রগতি।
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
Azista-র আর্থ অবজারভেটরি টিম নিজেদের তৈরি স্বল্পপাল্লার স্যাটেলাইট ব্যবহার করে পরীক্ষা চালায়। মহাকাশে নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট বেছে নিয়ে দিনের দুই ধাপে অসংখ্য ছবি তোলা হয়। প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৪৫ কিলোমিটার দূর থেকে হাই রেজোলিউশনের ছবি সংগ্রহ করা হয়।
এই ছবিগুলির বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, কোন দেশের স্যাটেলাইট কীভাবে মহাকাশে নজরদারি চালাচ্ছে, কোন অঞ্চলকে লক্ষ্য করা হচ্ছে, এমনকি কোন স্যাটেলাইটের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু অবস্থান নয়, কার্যপদ্ধতিও বোঝার মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। Azista হাতেকলমে দেখিয়েছে, কীভাবে কক্ষপথে থেকেই অন্য স্যাটেলাইটকে ট্র্যাক ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে স্যাটেলাইটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশে থাকা ভারতীয় স্যাটেলাইট এখন সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে রাখবে, প্রয়োজন হলে লাগাতার ট্র্যাক করবে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, যেখানে যুদ্ধ মাটিতে হলেও জয়-পরাজয়ের নির্ধারণ অনেকটাই নির্ভর করছে মহাকাশের সক্ষমতার ওপর, সেখানে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইন-অরবিট স্নুপিং প্রযুক্তি ভারতের জন্য বড় অগ্রগতি।
ইসরোর সাময়িক ব্যর্থতার মাঝেই এই সাফল্য এনে দিয়েছে গুজরাতের স্টার্ট আপ সংস্থা Azista Industries Private Limited। বেসরকারি উদ্যোগে এমন প্রযুক্তি অর্জন ভবিষ্যতের জন্য একাধিক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল। স্পষ্টতই, একদিকে ইসরোর ধাক্কা, অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থার সাফল্য—দুই মিলিয়ে ভারতের মহাকাশ গবেষণা এখন দলগত পারফরম্যান্সের নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। একজন ব্যর্থ হলেও অন্যজন সাফল্যের ভার কাঁধে তুলে নিচ্ছে, ঠিক যেন একটি দুর্ধর্ষ দল।