Bankura House Collapse: মেলেনি আবাসের টাকা, বেঘোরে প্রাণ গেল ২ বছরের শিশুর
Mud House Wall Collapse: , বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের আমডহরা গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস নিম্বর খানের। তৃণমূল আমলে বারেবারে আবাস প্রকল্পের বাড়ির জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন নিম্বর। কিন্তু অভিযোগ ওই প্রকল্পে দূর্নীতি ও স্বজনপোষণের জেরে প্রকল্পের বাড়ি পাননি।

বাঁকুড়া: আবাস প্রকল্পে তালিকাভূক্ত হয়েও মেলেনি সম্পূর্ণ টাকা! বর্ষার শুরুতেই কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ধসে প্রাণ গেল ২ বছরের এক শিশুর। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের আমডহরা গ্রামে। মৃত শিশুর পরিবারের দাবি, যথাসময়ে আবাস প্রকল্পের সুবিধা পেলে এভাবে সন্তানকে হারাতে হত না তাঁদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের আমডহরা গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস নিম্বর খানের। তৃণমূল আমলে বারেবারে আবাস প্রকল্পের বাড়ির জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন নিম্বর। কিন্তু অভিযোগ ওই প্রকল্পে দূর্নীতি ও স্বজনপোষণের জেরে প্রকল্পের বাড়ি পাননি। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের কিছুদিন আগে তাঁর নাম আবাসের তালিকাভুক্ত হলেও প্রাপ্তি বলতে প্রথম কিস্তির মাত্র ৬০ হাজার টাকা। পরের কিস্তি আর না মেলায় বাড়ি তৈরির কাজ থেমে যায় গোড়াতেই।
অগত্যা নড়বড়ে একচিলতে মাটির বাড়িতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন নিম্বর খান। আজ সকালে বাড়ির মধ্যে যখন এক প্রতিবেশী সহ ৪ জন চা খাচ্ছিলেন সেই সময় আচমকাই বাড়ির একটি দেওয়াল হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে যান নিম্বর খানের নাতনি রুমা খান, পুত্রবধূ মাহেদা খান, ২ বছরের নাতি তামিম খান ও প্রতিবেশী রিয়া চৌধুরী। দ্রুত ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে অন্যান্যদের উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত শিশু তামিম খানকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় আহত অন্যান্যদের বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, সময়মতো আবাস প্রকল্পের বাড়ি পেলে অথবা দেরিতে হলেও প্রকল্পের সম্পূর্ণ টাকা পেলে এভাবে কোলের শিশুকে হারাতে হত না পরিবারটিকে।
মৃত শিশুর আত্মীয় বলেন, “আমরা সবাই আশপাশেই ছিলাম। কাজ করছিলাম। দেওয়ালটা হঠাৎ পড়ে যায়। পাঁচ জন চাপা পড়ে গিয়েছিল। সবাইকে বার করে পারি। বাচ্চাটার শরীরে আর তখন প্রাণ ছিল না।” আরেক প্রতিবেশী বলেন, “আবাসের তো অর্ধেকেরও কম টাকা দিয়েছে। ওই টাকায় কীভাবে বাড়ি হবে। নিম্নচাপে টানা বৃষ্টি চলছে। মাটির বাড়ির দেওয়াল নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আবাসের টাকা তাহলে গেল কোথায়? প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেলেও, বাকি টাকা গেল কোথায়? কেন মাঝপথেই থামিয়ে দিতে হল বাড়ি তৈরির কাজ? উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আরও ১ লক্ষ বাড়ির টাকা কেন্দ্রের তরফে দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
