
মুকুটমনিপুর: গত মরসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। বর্ষায় কংসাবতী ও কুমারী নদী দিয়ে মুকুটমনিপুর জলাধারে এত পরিমাণ জল যায় যে দফায় দফায় জলাধার থেকে সেই জল ছেড়ে দিতে হয় নদীপথে। কিন্তু সম্প্রতি সেচ দফতর নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়ে দেয় যে বোরো চাষের জন্য দেওয়া যাবে না সেচের জল। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বোরো চাষ। লক্ষ লক্ষ একর জমিতে কী হবে, তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
পশ্চিমের চার জেলার লক্ষ লক্ষ একর জমিতে হয় বোরো ধান চাষ। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পরও কেন বোরো চাষে সেচের জন্য দেওয়া গেল না জল? এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে মূলত জলসেচ করা হয় পশ্চিমের জেলা বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। রবি মরসুমে বাঁকুড়া জেলার ৮৫২২০ একর, পশ্চিম মেদিনীপুরের ২৯২৯০ একর, ঝাড়গ্রাম জেলার ৯৪৪৫ একর ও হুগলি জেলার ৪৭৬১ একর জমিতে জলসেচ হয়। ওই জমির একটা বড় অংশে বোরো ধানের চাষও হয়।
গত কয়েক বছরের মতো সম্প্রতি সেচ দফতর নির্দেশিকা দিয়ে ওই চার জেলার কৃষকদেক জানিয়ে দেওয়া হয় রবি ফসলের জন্য মোট চার দফায় সেচের জল দেওয়া হলেও বোরো চাষের জন্য সেচের কোনও জল দেওয়া যাবে না। আর এতেই মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে জমিতে বোরো ধান রোপন করে দিলেও সেচের জল না মেলায় শেষ পর্যন্ত সেই ধান খামারে তোলা যাবে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো আশঙ্কার প্রহর গুনছেন কৃষকরা।
বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় সেই জল মুকুটমনিপুর জলাধারে ধরে রেখে কেন তা বোরো চাষের সেচের জন্য দেওয়া গেল না? প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে ক্যামেরার সামনে মুখ না খুললেও সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকুটমনিপুর জলাধারে সর্বোচ্চ জলধারণ ক্ষমতা ৪৩৪ ফুট। সর্বোচ্চ ৪৩৭ ফুট পর্যন্ত জল রাখা সম্ভব হয় ওই জলাধারে। এবছর বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন সময় জলাধারের জলস্তরের উচ্চতা সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছে যাওয়ায় একাধিকবার জল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় জলাধার কর্তৃপক্ষ।
আমন ও রবি মরসুমে জল ছাড়ার পর এখন জলাধারের জলস্তরের উচ্চতা নেমে এসেছে ৪২১ ফুটে। এখনও রবি ফসলের জন্য ঘোষণা মতো ৮ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত এবং ২৭ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দু’দফায় জল ছাড়া হবে। সেচ দফতরের ঘোষণা অনুযায়ী, রবি ফসলের জন্য আরও ২ দফায় জল ছাড়ার পর জলাধারে যে জল থাকবে, তা দিয়ে বোরো ধানের জন্য জল ছাড়া সম্ভব নয়।
এদিকে বোরো চাষের জন্য জল না দেওয়ার প্রশ্নে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির দাবি মানুষকে হাতে মারার পাশাপাশি ভাতে মারার ব্যবস্থা করেছে রাজ্যের সরকার। ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারকেই দূষছে বামেরাও। বিষয়টি নিয়ে ভোটের মুখে বিরোধীরা রাজনীতি করছে বলে দাবি তৃনমূলের। জলাধারে সঞ্চিত জলের অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে বাঁকুড়া জেলা পরিষদ।