
বাঁকুড়া: মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। বাংলার বাড়ির বড় বড় হোর্ডিংয়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছে জঙ্গলমহলের ছবি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা থেকে ব্রাত্য জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকের ১৩টি শবর অধ্যুষিত গ্রাম। শবরদের জন্য পৃথক সমীক্ষার দাবিতে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ শবরেরা। এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
আবাস প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্যের চাপানউতোরের মাঝেই রাজ্যে ২০ লক্ষ গৃহহীন পরিবারের মাথায় ছাদ করে দিতে বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। প্রকল্পের বিজ্ঞাপনের বড় বড় হোর্ডিংয়ে ঢাকা পড়েছে শহর থেকে গ্রামগঞ্জ। বিজ্ঞাপনের ঢক্কা নিনাদে চাপা পড়ে গিয়েছে জঙ্গলমহলের হতদরিদ্র শবর পরিবারগুলির বাড়ির হতশ্রী চেহারা। অভিযোগ, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের ১৯টি শবর গ্রামের ১৩টি গ্রামের কোনও শবর পরিবারই পায়নি না আবাস প্রকল্পের সুবিধা। অগত্যা শবরদের জন্য পৃথক সমীক্ষার দাবিতে রানিবাঁধ ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন বাংলার অন্যতম আদিম জনজাতি শবর সম্প্রদায়ের মানুষজন। যাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।
সারা রাজ্যে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ২০ লক্ষ উপভোক্তার নাম নথিভুক্ত হয়েছে। একের পর এক নিবিড় সরেজমিন সমীক্ষার পর গৃহহীনদের তালিকা তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। পোস্টার, দেওয়াল লিখন, হোর্ডিং থেকে শুরু করে শাসকদলের বিভিন্ন মঞ্চ থেকে তার সাফল্য ঘটা করে প্রচার করতে কসুর করেনি রাজ্য সরকার ও শাসকদল। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ি পাওয়ার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন তৃণমূলের বিত্তশালী পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে প্রাসাদোপম বাড়ির মালিক শাসকদলের নেতা। অথচ সেই তালিকায় ব্রাত্যই থেকে গেছে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকের ১৯টি শবর গ্রামের মধ্যে ১৩টি গ্রামের হতদরিদ্র কয়েকশো পরিবার।
সূত্রের খবর, রানিবাঁধ ব্লকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রায় আড়াই হাজার বাড়ি বরাদ্দ হলেও বড়দা, বেঠুয়ালা, বড়ডাঙা-সহ ১৩ টি শবর গ্রামের জন্য বরাদ্দ হয়নি একটি বাড়িও। অথচ ওই গ্রামগুলির বসবাসকারী শবর পরিবারের ঘরগুলি দেখলেই বোঝা যায় তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই।
কেন আবাসের তালিকায় ঠাঁই হল না জঙ্গলমহলের হতদরিদ্র এই আদিম জনজাতির মানুষদের? হাজার আবেদন নিবেদনেও কেন গৃহহীন মানুষগুলো সরকারি প্রকল্পের আওতার বাইরেই থেকে গেলেন? উত্তরটা জানা নেই প্রশাসন ও শাসকদলের নেতাদের। অগত্যা শবর সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য বাংলার বাড়ি প্রকল্পে পৃথক সমীক্ষার দাবি তুলে রানিবাঁধ ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন শবররা। রানিবাঁধের বিডিও অফিসে আছড়ে পড়ল শবরদের বিক্ষোভও। দাবি পূরণ না হলে নির্বাচনের আগেই আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন বঞ্চিত ওই আদিম জনজাতির মানুষগুলি।
এই নিয়ে তৃণমূলের দাবি, সমীক্ষায় কিছু ত্রুটি রয়েছে ঠিকই। কিন্তু শবর সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে রয়েছে রাজ্য সরকার। অনেক শবর পরিবারকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বাকিদেরও মাথার উপর ছাদ হবে। তৃণমূলের অভিযোগ, ৩৪ বছর বামেরা শবরদের জন্য কিছু না করে এখন শবরদের নিয়ে নাটক করতে রাস্তায় নেমেছে। অভিযোগ উড়িয়ে বামেরা শবরদের প্রতি এই বঞ্চনার জন্য রাজ্যের শাসকদল ও সরকারকেই দূষছে। স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের বক্তব্য, শবরদের জন্য পৃথক সমীক্ষার দাবি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।