
বাঁকুড়া: সবেমাত্র বাংলা ও ইংরাজি বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে। তার মাঝেই ভয়াবহ আগুনে বইপত্র সহ পুড়ে ছাই হয়ে গেল নিজেদের একমাত্র মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকুও। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর এমন করুণ পরিস্থিতিতে তার পরিবারের পাশে দাঁড়াল পুলিশ-প্রশাসন। পাশে দাঁড়াল একাধিক রাজনৈতিক দল। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের হরিহরপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গতকাল মাধ্যমিকের ইংরাজি বিষয়ের পরীক্ষা থাকায় স্থানীয় কালিসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অর্পণ ধীবর। পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরেই দেখে তাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। ভয়াবহ আগুনে বাড়ির যাবতীয় সামগ্রী সহ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে তার সমস্ত বইপত্রও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে অর্পণের বাবা তরুণ ধীবর পেশায় ছোট গাড়ির চালক।
হরিহরপুর গ্রামে ছোট্ট এক কামরার একটি এজবেস্টাসের ঘরে অর্পণ ও তার ছোট ভাইকে নিয়ে থাকেন তাঁর বাবা তরুণ ধীবর ও মা রীণা ধীবর। গতকাল দুপুরে অর্পণ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গেলে তার মা ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে তার মা দেখেন গোটা বাড়ি দাউদাউ করে জ্বলছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তাঁর চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় বাড়িটি। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাড়ির যাবতীয় আসবাব, পোশাক এমনকি ছেলেদের বইপত্রও।
পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরে এমন ঘটনা চোখে পড়তেই হতাশায় ভেঙে পড়ে অর্পণ। পরের পরীক্ষা কীভাবে দেবে তা ভেবেই কূলকিনারা পায় না। তবে ঘটনার খবর জানাজানি হতেই ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ায় পুলিশ, প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তড়িঘড়ি ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় বইপত্র কিনে দেয় ওন্দা থানার পুলিশ। পরিবারটির হাতে কিছু খাদ্য সামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়। পরিবারটির হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারটির পাশে থাকার আস্বাস দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অমর শাখা। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল নেতা উত্তম বিট।