
বিষ্ণুপুর: শনিবার বাংলা থেকে উদ্বোধন হবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। মালদহ থেকে সেই ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামিকাল রবিবার যেখানে বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেলপথে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেনেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বাংলার একগুচ্ছ রুটে অমৃত ভারত এক্সপ্রেসও চালু হচ্ছে। এই আবহে অপেক্ষায় রয়েছেন মুকুটমনিপুরের মানুষ। কবে চলবে ট্রেন?
জমিজট কাটিয়ে বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেলপথ যখন ধীরে ধীরে বাস্তবের মুখ দেখছে তখন প্রায় ২ দশক ধরে দুয়োরানি হয়েই পড়ে রয়েছে এ রাজ্যেরই ছাতনা-মুকুটমনিপুর রেলপথ। যে প্রকল্প বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলার জঙ্গলমহলের অর্থনৈতিক চালচিত্র বদলে ফেলতে পারত বলেই মনে করেন এলাকার মানুষ। প্রশ্ন উঠছে সমস্যা জমির? নাকি বরাদ্দ অর্থের? প্রকল্পের এই অবস্থার জন্য একে অপরকে দূষছে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দল।
২০০৪ সালে বাঁকুড়ার ছাতনা থেকে মুকুটমনিপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের জন্য প্রস্তাব অনুমোদন করে কেন্দ্রের রেল মন্ত্রক। পরিকল্পনা ছিল ভবিষ্যতে এই রেলপথ পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল ছুঁয়ে যুক্ত হবে জামশেদপুরের সঙ্গে। এর ফলে এ রাজ্যের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জঙ্গলমহল অঞ্চল যেমন রেলপথে যুক্ত হত, তেমনই পিছিয়ে পড়া ওই এলাকার আর্থ সামাজিক অবস্থাও দ্রুত বদলে যেত বলেই আশা ছিল এলাকার মানুষের।
প্রস্তাব অনুমোদনের পর সমীক্ষা চালিয়ে ওই রেলপথ নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ৮০০ একর জমি চায় রেল মন্ত্রক। ২০০৯ সালের আগেই ওই ৮০০ একরের মধ্যে ৫১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে রেলের হাতে তুলে দেয় তৎকালীন রাজ্যের বাম সরকার। জমি পেতেই জমি সমতলীকরণের কাজ শুরু করে রেল।
২০০৯ সালে প্রস্তাবিত ভেদুয়াশোল স্টেশনের শিলান্যাসও হয়ে যায় তৎকালীন রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান তথা বাঁকুড়ার বাম সাংসদ বাসুদেব আচারিয়ার হাত ধরে। কিন্তু রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরই থমকে যায় এই প্রকল্পের কাজ। নতুন করে যেমন এক ইঞ্চিও জমি অধিগ্রহণ হয়নি তেমনই বরাদ্দ অর্থের অভাবে এক চুলও এগোয়নি রেললাইন বসানোর কাজ। তারপর থেকে প্রায় দেড় দশক ধরে কার্যত ঝুলে রয়েছে এ রাজ্যের জঙ্গলমহলের স্বপ্নের সেই রেল প্রকল্প।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসতেই মঞ্চ থেকে এই প্রকল্প নিয়ে চলছে নেতাদের নানাবিধ আশ্বাস দেওয়ার পালা শুরু হয়েছে। বামেরা বলছে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ার জন্য দায়ী দুপক্ষই। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন কাটিয়ে আদৌ কি বাঁকুড়া পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে শোনা যাবে ট্রেনের হুইশেলের শব্দ? অপেক্ষায় জঙ্গলমহলবাসী।