
বাঁকুড়া: এতদিন সিএএ, এনআরসি নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর মুখে শোনা গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোডের প্রসঙ্গ। সোমবার বাঁকুড়ায় তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তীর সমর্থনে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই সিএএ, এনআরসি নিয়ে সরব হন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর মুখে শোনা যায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কথা।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আরেকটা বিলও পাশ করিয়ে নিয়েছে কি না কে জানে। ১৪৭ জন সাংসদকে বাদ দিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি। আপনারা জানেন হিন্দুদের মধ্যেও অনেক সাবকাস্ট আছে। ব্রাহ্মণ আছেন, শূদ্র আছেন, কায়স্থ আছেন। আদিবাসীদের বিয়ের ধরন অন্য। খ্রিস্টানদের, মুসলিমদের ধরন আবার অন্য। এটার মানে হচ্ছে আপনার নিজস্বতা বলে কিছু থাকবে না, আইডেনটিটি থাকবে না।”
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড মূলত গোটা দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য অভিন্ন আইনের কথা বলে। মূলত, বিয়ে, ডিভোর্স, দত্তক কিংবা উত্তরাধিকারের মত একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়গুলিকে ধর্মমত নির্বিশেষে এক ও অভিন্ন আইনে আনার কথাই বলে ইউনিফর্ম সিভিল কোড। সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদেও বলা হয়েছে, ভারতব্যাপী নাগরিকদের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরির চেষ্টা করবে রাষ্ট্র।
এদিন সিএএ এনআরসি নিয়েও মমতা বলেন, “ক্যা আর এনআরসি। মাছের মাথা আর লেজ। ক্যা মাথা, লেজ এনআরসি। যেই আবেদন করলেন সঙ্গে সঙ্গে এনআরসিতে পড়ে গেলেন। আপনাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকতে হবে। আপনার সব পরিচয় বন্ধ। আপনি তখন বিদেশি হয়ে গেলেন। ভুল করেও ক্যাতে নাম লেখাবেন না। আমরা ক্যা করতে দেব না, মানুষের পরিচয় কাড়তে দেব না। আমরা সবাই নাগরিক।” যদিও প্রথম থেকেই বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, সিএএ নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, নাগরিকত্ব কাড়ার নয়।