
বাঁকুড়া: SIR-এর ৭ নম্বর আপত্তি ফর্ম বোঝাই গাড়ি আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিল তৃণমূল কর্মীরা। এদিন দুপুরে বাঁকুড়ার তালডাংরা এলাকা থেকে খাতড়াগামী একটি গাড়িকে অনুসরণ করে খাতড়া সিনেমা রোড এলাকায় গাড়িটিকে আটক করে খাতড়া পুলিশের হাতে তুলে দেন একদল তৃণমূল কর্মী। ঘটনার পরেই খাতড়া থানায় হাজির হন রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডি সহ তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। তৃণমূলের দাবি বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতেই এত বিপুল সংখ্যক ৭ নম্বর আপত্তি ফর্ম জমা দিতে নিয়ে যাচ্ছিল বিজেপি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খাতড়া থানার পুলিশ। আটক দুই।
এসআইআরে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য অথবা কোনও ভোটারের তথ্য সংক্রান্ত আপত্তি জনানোর জন্য ৭ নম্বর আপত্তি ফর্ম জমা করার কথা সংশ্লিষ্ট বুথের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিএলএ-টু দের। তথ্য বলছে, একজন বিএলএ টু সর্বাধিক ১০ টি আপত্তি ফর্ম জমা করতে পারেন। তৃণমূলের দাবি এদিন একটি গাড়িতে করে বাঁকুড়ার তালডাংরা থেকে কয়েকশো ৭ নম্বর আপত্তি ফর্ম নিয়ে বিজেপি কর্মীরা খাতড়া মহকুমা শাসকের দফতরের উদ্যেশ্যে রওনা দিয়েছিল। বিষয়টি নজরে পড়তেই গাড়িটিকে ধাওয়া করতে শুরু করে তালডাংরার বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী। খাতড়া সিনেমা রোডের কাছে ওই তৃণমূল কর্মীরা গাড়িটিকে ধরে ফেলে। পরে গাড়িটিকে তুলে দেওয়া হয় খাতড়া পুলিশের হাতে।
গাড়িটিতে কয়েক’শো ৭ নম্বর ফর্ম ছিল বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ঘটনার পরই খাতড়া থানায় হাজির হন তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় ও রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডি। তৃণমূলের দাবি করা হয়েছে এলাকার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে এভাবেই বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে শয়ে শয়ে ৭ নম্বর ফর্ম পূরণ করে বিজেপি নেতারা সেগুলি নিয়ে যাচ্ছিল জমা করার উদ্দেশ্যে।
যদিও এলাকার বিজেপি নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিজেপির দাবি তৃণমূলের তরফে আপত্তি ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বত্র বাধা দেওয়া হচ্ছে। সে জন্যে তালডাংরা এলাকার বিজেপির বেশ কিছু দলীয় বিএলএ টু এর ফর্ম একত্রে জড়ো করে তা জমা দিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তৃণমূল রাস্তায় গাড়ির উপর হামলা চালিয়ে ফর্মগুলি ছিনতাই করার পাশাপাশি ওই গাড়িতে থাকা বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে মুখ খুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলছেন, “গাড়ির ভিতরে নয়-দশ হাজার ফর্ম নিয়ে গেছে। সব ডিলিট করার জন্য। জেনুইন ভোটারদের নাম। আপনারা জানতেই পারতেন না। ফাইলের পর ফাইল। বস্তায়-বস্তায় কাগজ। এটা মানুষের অধিকার-গণতন্ত্র চুরি। মানুষকে বাঁচতে দিচ্ছে না।”