
বাঁকুড়া: গোলাপ দিবসের আগে থেকেই ফুলের দোকানে একেবারে নতুন উদ্যোমে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতারা। কলকাতায়-সহ শহরতলিতে তো ২০-৩০ টাকার গোলাপ গোটা সপ্তাহ দ্বিগুণ, এমনকী তিনগুণ দামেও বিক্রি হয়েছে। এবার ভ্যালেন্টাইন ডে তে বিভিন্ন জেলায় ধরা পড়ল অন্য ছবি।
ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে দোকানে দোকানে উপচে পড়ছে হরেক গোলাপের ভিড়ে। ভাল বিক্রিবাটার আশায় দেশি, বিদেশি গোলাপ তুলেছিলেন ফুল বিক্রেতাদের অনেকেই। কিন্তু বিক্রি কোথায়? ব্যবসার অবস্থা দেখে রীতিমতো হতাশ বাঁকুড়ার ফুল বিক্রেতাদের অনেকে।
এমনিতে ভ্যালেন্টাইন ডে-র দিন প্রতি বছরই গোলাপের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। প্রতি বছর হাজার হাজার টাকার গোলাপ বিক্রি হয় দোকানগুলিতে। শুধু দেশি গোলাপই নয়, পাল্লা দিয়ে এদিন সমান চাহিদা থাকে বেঙ্গালুরু ও বিদেশি গোলাপেরও। অন্যান্য বছরের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ বছরও বহু আগে থেকেই ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে দেশি-বিদেশি গোলাপের বরাত দিয়েছিলেন ফুল ব্যবসায়ীরা। বরাত অনুযায়ী হাজার হাজার টাকার ফুল এনে সকাল সকাল নিজেদের দোকানে পসার সাজিয়ে বসলেনও অনেকে।
কিন্তু প্রেম দিবসের সকাল থেকে বিক্রিবাটার হাল দেখে রীতিমত হতাশ ফুল ব্যবসায়ীরা। বাঁকুড়ার কোতুলপুর বাজারে সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও যুগলদের দেখা সেভাবে পাননি ফুল বিক্রেতারা। কিন্তু কেন এই অবস্থা? ব্যবসায়ীদের দাবি একদিকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা আর অন্যদিকে শিবরাত্রির ব্রত উদযাপন দু’য়ের জেরেই গোলাপের চাহিদা কমেছে। বাজারের এই অবস্থায় বড় লোকসানের আশঙ্কা তাড়া করে বেড়াচ্ছে ফুল ব্যবসায়ীদের।
গোলাপ ব্যবসায়ী সোম হাঁসদা বলছেন, “সকালের দিকে একদমই বিক্রি হয়নি। আশ করছি বিকালের দিকে কিছু ফুল বিক্রি হবে। এখন আপাতত সব ধরনের গোলাপের মধ্যে বেঙ্গালুুরু গোলাপের চাহিদা বেশি। ৪০ টাকা থেকে ৫০-৬০ টাকার মধ্য়ে সব ধরনের গোলাপই রয়েছে। এবারে তো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা একেবারে ভ্যালেন্টাইন ডে তে পড়ে গিয়েছে। তারউপর শিবরাত্রি রয়েছে। না হলে অন্যান্য বছর বাজার অনেক ভালই থাকে।” একইসুর আরও দুই গোলাপ ব্যবসায়ী লক্ষীকান্ত মালাকার, নিতাই চক্রবর্তীর গলাতেই। তাঁরা বলছেন, প্রেমিক-প্রেমিকারা তো সব পরীক্ষা দিতে গিয়েছে। তাই সকালের দিকে চাহিদা খুব বেশি নেই। এমনিতে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভ্যালেন্টাইন ডে নিয়ে উন্মদনা বেশি থাকে। আশা করছি পরীক্ষা মিটে গেলে বিকালের দিকে বেশি বিক্রি হবে।