
বাঁকুড়া: হিমঘরে ৫ হাজার বস্তা আলু রাখার জায়গা খালি রেখে হিমঘর বন্ধের ঘোষণা করেছিল হিমঘর কর্তৃপক্ষ। সেই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়ার কোতুলপুরে। প্রতিবাদে দীর্ঘক্ষণ বিষ্ণুপুর আরামবাগ রাজ্য সড়ক অবরোধ করে রাখলেন স্থানীয় আলু চাষিরা। পরে কোতুলপুর থানার মধ্যস্থতায় অবরোধ ওঠে। খোলা বাজারে আলুর দর নেই। স্বাভাবিক ভাবেই এবার সব আলু চাষি চাইছেন হিমঘরে আলু রেখে দাম চড়লে সেক্ষেত্রে তা বিক্রি করতে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও বাধা দিচ্ছে একাধিক হিমঘর কর্তৃপক্ষ।
বাঁকুড়ার কোতুলপুর ব্লকের একটি বেসরকারি হিমঘরে ৫ হাজার বস্তা আলু রাখার জায়গা খালি রেখেই হিমঘর বন্ধের ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। আর সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই আজ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই হিমঘরের সামনে। আলু চাষিদের দাবি, চাষিদের আলু সংরক্ষণ না করে হিমঘর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের আলু সংরক্ষণের উদ্যেশ্যে হিমঘরে ওই জায়গা খালি রাখতে চাইছে। হিমঘর কর্তৃপক্ষের এমন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে সামনে রেখে প্রতিবাদ শুরু করেন চাষিরা।
বিষ্ণুপুর আরামবাগ রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন চাষিরা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে অবরোধ চলার পর অবশেষে খবর পেয়ে কোতুলপুর থানার পুলিশ অবরোধস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ হিমঘর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে হিমঘরের খালি অংশ ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত চাষিদের কাছ থেকে আলু নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পুলিশের নির্দেশে হিমঘর কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলে চাষিদের অবরোধ ওঠে। হিমঘর কর্তৃপক্ষের দাবি, হিমঘরে আলু সংরক্ষণ নিয়ে গন্ডগোল শুরু হওয়াতেই সাময়িকভাবে চাষিদের কাছ থেকে আর আলু না নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।
হিমঘর কর্তৃপক্ষ কুমারেশ চক্রবর্তী বলেন, “পাঁচ হাজার বস্তা রাখার আর জায়গা খালি ছিল। কিন্তু যা ঝামেলা চলছিল, সেই ঝামেলা আর পোহাতে পারছি না আমরা। এখন পাঁচ হাজার রাখতে দিলেই ৫০ হাজার বস্তা চলে আসত। এখন পুলিশ আর চাষিরা সহযোগিতা করেছেন। আমরা ৫ হাজার বস্তাই রাখব।”