TMC Leader: ‘যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন তাঁদের অবস্থা কী করব…’, রাখঢাক নেই, প্রকাশ্যেই হুমকি দিচ্ছেন তৃণমূল নেতা

Bankura: তৃণমূলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর দুই সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পৃথক-পৃথক মঞ্চ থেকে বেনজির আক্রমণ করলেন বিরোধী বিজেপিকে। কেউ নির্বাচনের পরে বিজেপি কর্মীদের এলাকা থেকে তাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তো কেউ আবার নির্বাচনের পরে হুঁশিয়ারি দিলেন দেখে নেওয়ার।

TMC Leader: যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন তাঁদের অবস্থা কী করব..., রাখঢাক নেই, প্রকাশ্যেই হুমকি দিচ্ছেন তৃণমূল নেতা
তারাশঙ্কর রায়Image Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Jan 26, 2026 | 12:38 PM

বাঁকুড়া: দরজায় কড়া নাড়ছে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বেলাগাম আক্রমণে ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে পশ্চিমের জেলা বাঁকুড়া। তৃণমূলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর দুই সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পৃথক-পৃথক মঞ্চ থেকে বেনজির আক্রমণ করলেন বিরোধী বিজেপিকে। কেউ নির্বাচনের পরে বিজেপি কর্মীদের এলাকা থেকে তাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তো কেউ আবার নির্বাচনের পরে হুঁশিয়ারি দিলেন দেখে নেওয়ার। পাল্টা হুঁশিয়ারির পথে হেঁটেছে গেরুয়া শিবিরও। বিজেপি একটু সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে তৃণমূলের অস্তিত্ব বিপন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বাঁকুড়া জেলায় আক্রমণের ধার আরও তীক্ষ্ণ করছে রাজ্যের শাসক দল। গত বিধানসভা নির্বাচনে (২০২১) বাঁকুড়া জেলার ১২ টি আসনের মধ্যে ৮ টি হাতছাড়া হয়েছিল শাসক তৃণমূলের। গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখেও জেলার ৭ টি আসনে পদ্ম-শিবিরের কাছে পিছিয়ে ছিল ঘাসফুল শিবির। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূলের কাছে বাঁকুড়া জেলায় হারানো জমি ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন অন্যতম অগ্নিপরীক্ষা। আর তাকে সামনে রেখেই এবার নির্বাচনের বহু আগে থেকে বিজেপিকে লাগাতার আক্রমণের পথে হাঁটতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির।

বাঁকুড়ার তালডাংরায় আয়োজিত দলীয় একটি সভা থেকে তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় নজিরবিহীনভাবে বিজেপি কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিজেপিকে যাঁরা উস্কানি দিচ্ছেন ছাব্বিশের নির্বাচনের পর তাঁরা বুঝতে পারবেন…বিজেপির নাম মুখে আনলে বুঝতে পারবেন…।” এখানেই শেষ নয়, একইভাবে রবিবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়ার কোতুলপুরে দলীয় একটি সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে এলাকার বিজেপি কর্মীদের ‘বাঁদরের বাচ্চা’ আখ্যা দিয়ে লাগামহীন ভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন, “কোতুলপুরে বিজেপিকে বাড়তে দেওয়া যাবে না। ২০২৬ এর ভোটে তাদের হারিয়ে এলাকা থেকে তাড়াতে হবে।”

কী বলছেন তারাশঙ্কর?

“উত্তর-প্রদেশ, বিহার গেলে মারা হয়। আর এই বাঙালিদের কাছে আপনারা কীভাবে ভোট চাইতে আসেন? আপনাদের লজ্জা থাকা দরকার। বিজেপিকে বাংলার মানুষ একদম ভোট দেবে না। যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন তাঁদের অবস্থা কী করব, আগামী দিনে দেখবেন।”

তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের এই ধরনের লাগামহীন আক্রমণের কড়া সমালোচনা করেন। পাল্টা তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি। বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা বলেন, “তৃণমূল ভয় পাচ্ছে। ঠেলায় পড়ে এখন তারা গাছে উঠছে। বিজেপি যদি একটুও সন্ত্রাসের রাজনীতি করে তাহলে তৃণমূলের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।”