
সিউড়ি: অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) হাতে বীরভূমে (Birbhum) সংগঠনের দায়িত্ব দিয়ে এতদিন নিশ্চিত হয়ে থাকতে পারত তৃণমূল। কেষ্ট-গড়ে দাঁত ফোটানোর সুযোগ পেত না বিরোধীরা। কিন্তু এখন তিনি গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিহাড়ে রয়েছেন। আর এমন অবস্থায় কি কেষ্ট-হীন বীরভূমে চাঙ্গা হয়ে উঠছে বিরোধীরা? প্রশ্ন উঠছে, কারণ, যে বীরভূমে এককালে কেষ্ট মণ্ডলের নামে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত, সেই বীরভূমেই অনুব্রতর পোস্টার কে বা কারা ছিঁড়ে গিয়েছে। তাও আবার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনেই। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুব্রত মণ্ডলের পোস্টার লাগানো ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, কে বা কারা সেই পোস্টার ছিঁড়ে দিয়েছে। আর এই নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ বিজেপির দিকে। শাসক শিবিরের দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এক কাজ করেছে বলে তাঁদের সন্দেহ। এদিকে এই ঘটনার পর খবর পাঠানো হয় সিউড়ি থানাতেও। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা পরিস্থিতি দেখে এসেছে এবং কারা এই কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পার্টি অফিসের সামনে অনুব্রত মণ্ডলের একটি ব্যানার ছিল, সেটি কেটে দেওয়া হয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, তারা এই তৃণমূলের কাজ সহ্য করতে পারছে না। এই কাজ পরিকল্পনামাফিক করা হয়েছে। নিশ্চয়ই বিরোধীদের কারও ইন্ধন রয়েছে।’ বিশেষভাবে বিজেপির দিকেই আঙুল তুলছে রাজ্যের শাসক শিবির। স্থানীয় তৃণমূল নেতা পবিত্র দাস জানাচ্ছেন, পুলিশের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং যারা এক কাজ করছে তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
যদিও বিজেপি শিবির এই ধরনের কোনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। বিজেপির বীরভূম সংগঠনিক জেলার সভাপতি ধ্রুব সাহা জানিয়েছেন, ‘তৃণমূল হল চোর চিটিংবাজের দল। তাদের ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়ার অভ্যাস আমাদের নেই। আমরা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত নই। এই ধরনের কাজ বিজেপি সমর্থন করে না।’