e

বীরভূম: কিছুদিন আগেই কাজল শেখের হাতে উঠেছিল আড়াই কেজির রূপোর তরোয়াল। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই কেষ্টর অনুগামীরা। সোজা কথায়, ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই যেন বীরভূমের আঙিনা তপ্ত হচ্ছে উপহারের রাজনীতিতে। একদিকে অনুব্রত মণ্ডল অন্যদিকে কাজল শেখ, আর তাঁদের অনুগামীদের মধ্যে চলছে উপহার দিয়ে খুশি করার এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা। দিন কয়েক আগেই বীরভূমের রাজনগর ব্লকের চন্দ্রপুর গ্রামে অনুব্রত মণ্ডলকে শ্রীকৃষ্ণের আদলে তৈরি রুপোর মুকুট উপহার দেন তাঁর অনুগামীরা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মহম্মদ বাজারে কেষ্টর হাতে ও দেওয়া হয় ‘কৃষ্ণের বাঁশি’।
কেষ্ট যখন একের পর এক উপহারে ভাসছেন, তখন পিছিয়ে নেই বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের শিবিরও। সাঁইথিয়া উৎসবের মঞ্চে কাজল শেখের হাতে তাঁর অনুগামীরা তুলে দিলেন বিরল ‘পঞ্চমুখী শঙ্খ’। গত বছর এই সাঁইথিয়াতেই কাজলকে হিসাবে দেওয়া হয়েছিল ‘সুদর্শন চক্র’ এবং মহাদেবের ‘ত্রিশূল’।
বিশেষ সম্মান পেয়ে আপ্লুত কাজল। বলেন, “আমি মুসলিম পরিবারের সন্তান, তারপরেও সাঁইথিয়াতে আমাকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি অভিভূত। শঙ্খ পেয়ে আমি মুগ্ধ।” তবে এই লড়াই শুধু উপহারেই সীমাবদ্ধ নেই। আগেই তা ছড়িয়ে পড়েছে ভার্চুয়াল জগতেও। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর মাধ্যমে দুই নেতার অনুগামীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিলেন। সেখানে অনুব্রত মণ্ডলকে দেখা যায় বাঘের সঙ্গে গলা মেলাতে। অন্যদিকে পাল্টা হিসেবে কাজল শেখকে সিংহের সঙ্গে তুলনা করে ছবি পোস্ট করছেন তাঁর সমর্থকরা।
উপহারের রাজনীতি নিয়ে চাপানউতোর চললেও কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি। খোঁচা দিয়েই বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কে কতটা উপহার দিয়ে দাদাদের কাছের লোক হতে পারবে, তারই প্রতিযোগিতা চলছে। আসলে দাদাকে তেল মেরে বালিঘাট বা অবৈধ সুবিধা নেওয়াই এদের লক্ষ্য। এসবই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর টাকার খেলা ছাড়া কিছু নয়।”