
রিয়া নমোদাসের রিপোর্ট
কোচবিহার: মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম কোচবিহারে এলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সাগরদিঘির পাশে ‘চায়ে পে চর্চা’-য় যোগ দিয়ে পঞ্চায়েতের অডিট ও প্রশাসনিক বৈঠক নিয়ে দিলেন কড়া বার্তা। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তাঁর সাফ বক্তব্য, “দুর্নীতি করলে কেউ ছাড়া পাবে না”।
মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কোচবিহারে এলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “মন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম কোচবিহারে এসেছি। কোচবিহারের মানুষকে ধন্যবাদ জানাতেই এই সফর”।
এদিন একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। রবীন্দ্রভবনে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার প্রায় ৬৫০ জন আধিকারিককে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। বিভিন্ন দফতরের কাজ খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক বলে জানিয়েছেন তিনি। সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের অডিট খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান দিলীপ ঘোষ। কোথাও কোনও খামতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ব্যাপক তছরুপ হয়েছে। পাশাপাশি দলের সমস্ত কর্মীকেও সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রবিবার রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম-দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, “সবাই প্রচার করবেন এবং সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট হওয়া উচিত।”
তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও এ রাজ্য়ে আসতে বলেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, “কংগ্রেস কোথায়, কেউ জানেন না। রাহুল গান্ধীর বাংলায় ভোটের প্রচারে আসা উচিত। তাহলে উনি বুঝবেন এখানে রাজনীতি কেমনভাবে হয়।”
এদিকে, প্রতীক হারানোর পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী ভেগে যাচ্ছে তাঁকে ছেড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকি জীবন আদালতে গিয়ে কাটবে। হাইকোর্টে যাক, সুপ্রিম কোর্টে যাক তিনি, কেউ মানা করেনি তাঁকে৷”
রাজ্যে উপনির্বাচন প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “বিরোধী দল কোথায়, তা বোঝা যাচ্ছে না। বিরোধী প্রার্থী নেই, কিছুই নেই। শুধু অভিযোগ করছেন, এতে কিছু হয় না। ময়দানে লড়তে হয়।”
প্রাক্তন শাসক দলকে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সমাজ বিরোধীদের নিয়ে এতদিন রাজনীতি করত তৃণমূল কংগ্রেস। মানুষ সুযোগ পেতেই তাদের হারিয়ে দিয়েছে। এখনও সমাজবিরোধীদের নিয়ে চলার চেষ্টা করছে। তাই আইন আইনের মত কাজ করছে।”
শালবনী জমি সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বয়ান ঘিরে যে শোরগোল পড়েছে, তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ। সুমিত রায় সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে অভিষেকের নির্দেশেই , দলীয় অ্যাকাউন্টে শালবনীর জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির ৭ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, ধীরে ধীরে সব সামনে আসছে।”