
কোচবিহার: নিজেদের চুক্তি ভিত্তিক ভারতীয় বলে দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভার সংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত রায়। চুক্তির মাধ্যমে কোচবিহার ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। কোচবিহারের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর না হলে তাদের আলাদা করে দেওয়ার কথা বলে কার্যত কেন্দ্রকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও বিজেপি সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত রায়। তাঁর দাবি, কোচবিহার কোনও দান বা দখলের ফল নয়, চুক্তির মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল এই অঞ্চল। ফলে সেই চুক্তির শর্ত মানা কেন্দ্রীয় সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়।
কোচবিহারের বানেশ্বরে বীর চিলারায়ের জন্ম জয়ন্তী পালন উৎসবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অনন্ত রায়। তিনি বলেন, “কোচবিহার চুক্তি করে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সেই চুক্তি ফলো করা উচিত। না হলে আমাদের আলাদা করে দিন।” একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রকে সতর্ক করে বলেন, “পাঁচ বছর পরপর প্রধানমন্ত্রী বদলায়, কিন্তু দেশ তো একই থাকে। সরকার বদলালেও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা বদলায় না।”
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও তীব্র আপত্তি জানান বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে যেখানে পরিচয় বা নাগরিকত্বের নথি দেখানোর প্রয়োজন নেই, সেখানে কোচবিহারের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বারবার কাগজ চাওয়া হচ্ছে। এই দ্বৈত মানদণ্ড সাংবিধানিক সমতার পরিপন্থী বলেই দাবি তাঁর।
অনন্ত রায়ের বক্তব্য, “আদিবাসীদের কাগজ দেখাতে হয় না, অথচ আমাদের কাছে কেন কাগজ চাইছে নির্বাচন কমিশন? যে প্রক্রিয়া কমিশন চালাচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ ভুল।” তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের যাচাই প্রক্রিয়া কোচবিহারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।”
এখানেই থামেননি তিনি। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করে অনন্ত রায় বলেন, “এই ধরনের কাজের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জেলে ঢোকানো উচিত।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অনন্ত রায়ের বক্তব্যকে ঘিরে বিজেপি ও বিরোধী শিবিরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, কোচবিহার চুক্তি ও নাগরিকত্ব যাচাই প্রসঙ্গ নতুন করে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।