AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

School Teacher Arrest: কাঠগড়ায় মাস্টারমশাই, তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষাপট শুনেই ভরা এজলাসে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খোদ বিচারক, করলেন দুঃখপ্রকাশও! কী অপরাধ স্যরের?

Mathabhanga High School Teacher Arrest: মাথাভাঙ্গা গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা চিদকণা সাহা বলেন, “এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষক সমাজ যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা অভিযোগ আনার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হবেন। শিক্ষকরা সমাজ গঠনের কারিগর। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।”

School Teacher Arrest: কাঠগড়ায় মাস্টারমশাই, তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষাপট শুনেই ভরা এজলাসে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খোদ বিচারক, করলেন দুঃখপ্রকাশও! কী অপরাধ স্যরের?
শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তীImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jun 21, 2026 | 11:22 AM
Share

কোচবিহার: স্কুলের প্রথম পিরিয়ড শুরু হয়ে গিয়েছিল। রোল কলও প্রায় শেষের মুখে। সে সময়ে ক্লাসে ঢোকার চেষ্টা করেছিল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র। মাথাভাঙা হাইস্কুলের শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তী তখন সেই ছাত্রকে প্রশ্ন করেছিলেন, তার কেন এত দেরি? এই হল সূত্রপাত। ছাত্র তার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন, মুখে-মুখে তর্কও করতে থাকে, যে দেরি একটু আধটু হতেই পারে, তার জন্য কেন ক্লাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না? স্যর, ক্লাসে ঢুকতে দেন। রোল কলের পর তিনি দেখতে পান, ওই ছাত্র আগে পরপর তিন দিন আসেনি, অথচ নোটবুকে অভিভাবকের সই করিয়ে আনেনি। সে প্রশ্ন করাতে ছাত্র আরও ঊৎশৃঙ্খলতার পরিচয় দেয়। শিক্ষকের সঙ্গে অভব্য আচরণ করতে থাকে। তাতে শাসন করেছিলেন শিক্ষক। সে শাসন ছিল কেবলই মৌখিক। ছাত্র বাড়িতে যায়, অভিভাবককে জানায়। এরপরই অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ওই ছাত্রের বাবা মা চলে আসেন স্কুলে। প্রথমে টিচার ইনচার্জের সঙ্গে কথা, পরে স্যর তন্ময় চক্রবর্তীর সঙ্গে! তবুও মেটে না সমস্যা। বাকি শিক্ষকরা বোঝান, স্কুলে স্যররা ছাত্রদের শাসন করবেনই। কিন্তু স্কুল থেকে বেরিয়ে অভিভাবকরা চলে যান থানায়। সরাসরি প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ। অভিযোগ পেয়ে প্রথমে স্কুলে, তারপর শিক্ষকের বাড়িতেই পৌঁছে যায় পুলিশ। শিক্ষককে গ্রেফতার। এই হল গোটা ঘটনার প্রেক্ষাপট। মাথাভাঙা হাইস্কুলের স্যর তন্ময় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬(২), ১১৫(২) এবং ১১৭(২) ধারায় মামলা রুজু হয়। জেলা আদালতে মামলাটি ওঠে।

আদালতের প্রায় সব আইনজীবী ও সরকারি আইনজীবীও শিক্ষকের পাশে দাঁড়ান। আদালত চত্বরের বাইরে অপেক্ষায় ছিল তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা। ভরা এজলাসে এই মামলার প্রেক্ষাপট যখন শোনে বিচারক, তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান।  বিচারক বলেন, “এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। এই ধরনের ঘটনা কাঙ্খিত নয়।”

শিক্ষকের আইনজীবী কৌশিক ভদ্র বলেন, ” যিনি এই মামলাটা করেছেন, হয়তো না বুঝেই করেছেন, যে এতে সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে। যে দলের নাম ভাঙিয়ে থানায় জোর খাটিয়েছেন, আমি খবর পেয়েছি, সেই দলও তাঁকে স্বীকৃতি দেয়নি।”

শুনানিতে গোটা বিষয়টি শোনার পর এজলাসের মধ্যেই প্রচণ্ড বিরক্তি প্রকাশ করেন। বিচারক প্রশ্ন করেন, “এই ধরনের মামলা কেন আদালতে আসবে? পুলিশই বা কেন এত সক্রিয়তা দেখাতে গেল?” সংশ্লিষ্ট অফিসারকে কারণ দর্শনেরও নোটিস দিয়েছে আদালত। বিচারকের মন্তব্য, “শিক্ষকেরা শাসন করেন বলেই আমরা আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি।” তিনি শিক্ষককে পিআর বন্ডে মুক্তি দেন এবং তদন্তকারী অফিসারকে এই ধরনের মামলা শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেন।

মাস্টারমশাইদের উদ্দেশেও বিচারক বলেছেন, “আপনারা শাসন করবেন আপনাদের মতন করেই, নাহলে ভবিষ্যৎ সমাজ কীভাবে তৈরি হবে?” তিনি এজলাসে দুঃখপ্রকাশও করেন, এজলাসে বসেই ক্ষমা চান বিচারক।

মাথাভাঙ্গা গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা চিদকণা সাহা বলেন, “এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষক সমাজ যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা অভিযোগ আনার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হবেন। শিক্ষকরা সমাজ গঠনের কারিগর। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।”

জামিনে মুক্তি পেয়ে আদালতের বাইরে যখন শিক্ষক আসেন, তখন তাঁর জন্য বাইরে অপেক্ষা করছিল বাকি পড়ুয়ারা, তাঁর সহকর্মীরা, অন্যান্য আইনজীবীরাও। তিনি বেরোতেই শুরু হয় পুষ্পবৃষ্টি। তাঁকে ফুলের মালায় বরণ করা হয়। আর আবেগে স্যর তন্ময় চক্রবর্তী কেঁদে ফেলেন। সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি জানি না এই ফুলের  মালা আমার প্রাপ্য কিনা। শুধু এটুকু বুঝেছি, এত বছরের শিক্ষকতার জীবনে যারা মানুষ করতে চেয়েছি, তারা মানুষ হয়েছে।” ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে হাত উঁচিয়ে বলেন, ‘তোরা অনেক বড় হ্।’

Follow Us