Paresh Adhikari Assets: HS পাশ হয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী, পরে খোয়ানোও! শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়েও দলের ভরসার পাত্র! পরেশের সম্পত্তির পরিমাণ জানেন?
Paresh Adhikari Assets Affidavit: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া হলফনামা অনুসারে, এখন পরেশের হাতে টাকা রয়েছে ২৯ হাজার ৯৭৬ টাকা। তবে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে পরেশের। তার মধ্যে একটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ৪৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৩১৫ টাকা রয়েছে, আরেকটি অ্যাকাউন্টে ২২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫৬৭ টাকা রয়েছে। দুটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টই মেখলিগঞ্জে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের কলকাতার শাখায় ৪১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯১০ টাকা রয়েছে।

মেখলিগঞ্জ: কোচবিহারের বর্ষীয়ান রাজনীতিক তিনি। তবে রাজনৈতিক কারণের থেকেও আইনি কারণে গত কয়েক বছরে সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন। দীর্ঘকাল মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজনৈতিক জীবনে ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন, দায়িত্ব সামলেছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের খাদ্যমন্ত্রী হিসাবেও। ২০১৮ সালে তৃণমূলে যোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় স্কুল শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী হওয়া উচ্চমাধ্যমিক পাশ পরেশ অধিকারীর। পরেশ অধিকারীর রাজনৈতিক জীবন বড়ই রঙিন। কিন্তু রাজনৈতিক কেরিয়ারের থেকেই রঙিন তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিতর্ক।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলা পরেশের রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড় বিতর্ক তৈরি করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি তাঁর মেয়েকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষিকার পদে বেআইনিভাবে নিযুক্ত করেছিলেন। এই মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর মেয়েকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং পরেশ অধিকারীকে মন্ত্রিত্ব খোয়াতে হয়। বর্তমানে সিবিআই এই মামলার তদন্ত করছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও দল তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে। ‘২৬ এর নির্বাচনেও তিনি মেখলিগঞ্জের প্রার্থী। এই নির্বাচন পরেশ অধিকারীর কাছে এক বড় অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সে দাগ এখনও মোছেনি।
ব্যাঙ্কে কত টাকা?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া হলফনামা অনুসারে, এখন পরেশের হাতে টাকা রয়েছে ২৯ হাজার ৯৭৬ টাকা। তবে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে পরেশের। তার মধ্যে একটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ৪৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৩১৫ টাকা রয়েছে, আরেকটি অ্যাকাউন্টে ২২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫৬৭ টাকা রয়েছে। দুটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টই মেখলিগঞ্জে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের কলকাতার শাখায় ৪১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯১০ টাকা রয়েছে।
মেখলিগঞ্জের পোস্ট অফিসেও টাকা রয়েছে পরেশের। এলআইসি পলিসিও রয়েছে। পরেশের একটি ইনোভা গাড়ি রয়েছে। হলফনামায় পরেশ উল্লেখ করেছেন, কেবল ১০ গ্রাম সোনা রয়েছে তাঁর। মোট অস্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ৩৪ লক্ষ, ৩৬ হাজার ৮২৪ টাকা ৫৯ পয়সা।
কতগুলো বাড়ি-ফ্ল্যাট?
হলফনামা অনুসারে, মেখলিগঞ্জে পৈত্রিক বাড়ি রয়েছে পরেশের। হলফনামা অনুসারে, সেই বাড়ি ভাই ও বোনের থেকে গিফট স্বরূপ পেয়েছেন। সৌলমারিতে ৮.৮৪ একর জমির ওপর তৈরি সেই বাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য ৩২ লক্ষ ৫০ হাজার। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনায় হাডকোতেও একটি ফ্ল্যাট করেছে পরেশের। ২০১৪ সালে ২১৬২ স্কোয়ার ফিটের সেই ফ্ল্যাট ১২ লক্ষ ৪২ হাজার ৮২৯ টাকায় কিনেছিলেন। বর্তমানে যার বাজার মূল্য ৪৮ হাজার টাকা। মেখলিগঞ্জে আরও বাণিজ্যিক কারণে কেনা ফ্ল্যাট, পাশাপাশি মেখলিগঞ্জেই ৯০০ স্কোয়ার ফিট ও ১৩৫০ স্কোয়ার ফিটের আরও দুটো ফ্ল্যাট রয়েছে। জলপাইগুড়ির খাড়িয়াতে ৩০৬০ ও ১৯০০ স্কোয়ার ফিটের দুটো ফ্ল্যাট রয়েছে পরেশের। সব মিলিয়ে পরেশের স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পরেশের মোট আয় ১৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৪৭ টাকা। বাজারে পরেশের ঋণও রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে পরেশের পার্সোনাল লোন ও হোম লোন রয়েছে ২৯ লক্ষ ৯ হাজার ২৪৯ টাকার।
স্ত্রীয়ের সম্পত্তি
তবে পরেশের বিরুদ্ধে এখনও একটি ফৌজদারি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন আছে । অভিযোগ, ২০১৬ সালের একাদশ দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত। ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। এই ‘দাগ’ মুছে ফেলার অগ্নিপরীক্ষার মুখে পরেশ।
