
কুমারগঞ্জ: ডাইনি অপবাদে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল নাতির বিরুদ্ধে। ঘটনায় গ্রেফতার অভিযুক্ত নাতি-সহ দুজন। রবিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের রামকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মামুদপুরে। মৃতার নাম লক্ষ্মী সরেন(৬৯)। সোমবার কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়। পাশাপাশি ধৃত সঞ্জয় টুডু ও তাঁর শাশুড়ি মিঠুন সরেনকে আজ বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডু। এদিকে খুনের অভিযোগ পেতে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, লক্ষ্মী সরেন বয়সজনিত কারণে সেভাবে কিছু করতে পারেন না। অভিযোগ, অভিযুক্ত সঞ্জয় টুডুর বোন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ তার অসুস্থতার কারণ হিসেবেই ঠাকুরমা লক্ষ্মী সরেনকে ডাইনি চিহ্নিত করা হয়। গত শনিবার এনিয়ে গ্রামে সালিশিসভা বসে। সেখানেই ডাইন অপবাদ দূর করতে ওঝা নিয়ে আসা হয়। যার জন্য প্রায় ৭ হাজার টাকা দিতে হয় মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডুকে। এরপর কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। এদিকে গতকাল রাতে সোনুমি টুডু (১৬) নামে ওই নাবালিকা আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরিবারকে জানাই, তাঁর ঠাকুরমা তাঁকে গলা টিপে খুন করার চেষ্টা করছে সে ভাবনায় দেখতে পায়। এরপরই অসুস্থ নাবালিকার ভাই সঞ্জয় টুডু ক্ষুব্ধ হয়ে লক্ষ্মী সরেনের উপর হামলা চালায়। ইট, পাথর, হাঁসুয়া নিয়ে হামলা চালানো হয়। মায়ের উপর হামলা হচ্ছে দেখেই ছেলে মঙ্গলু টুডু মাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়। সেই সময় তাঁকেও মারধর করার চেষ্টা করা হয়। এরপরে তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে পুরো বিষয়টি জানায়। তারপর পঞ্চায়েত সদস্য-সহ গ্রামবাসীরা গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে লক্ষ্মী সরেন।
পরে তাঁকে তড়িঘড়ি পুলিশ এসে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এনিয়ে রাতেই ছেলে কুমারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেতেই দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযুক্তের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামের একাধিক জন এই ঘটনায় যুক্ত রয়েছে বলেই মৃতার পরিবারের অভিযোগ। পুরো ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।