
বালুরঘাট: বালুরঘাট শহরের অদূরে আত্রেয়ী নদীর ধারে নির্জন জঙ্গলে বছর তেরোর এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ। এই ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে। জানা গিয়েছে, বালুরঘাট থানা এলাকার আত্রেয়ী নদীর পাশ একটি জঙ্গল রয়েছে। অভিযোগ, সোমবার ওই নাবালিকা একা বাড়ি থেকে বেরিয়ে নদীর ধারে চলে যায়। এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে একটি জনসাধারণের শৌচালয় নির্মাণের কাজ চলছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। অভিযোগ,পরে নাবালিকাকে নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে চলে যায়। ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এ দিকে, ওই ব্যক্তির আনাগোনা সন্দেহজনক এবং নাবালিকাকে বাড়ি ফিরতে না দেখায় রাজমিস্ত্রীরা জঙ্গলের ভেতরে যায়৷ সেখানেই মুখ বাঁধা অবস্থায় নাবালিকাকে উদ্ধার করেন তারা। এমনকি অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলেই হাতেনাতে ধরে ফেলেন তারা।
অভিযোগ, ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গতকাল রাতেই নাবালিকার পরিবার বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার নির্যাতিত নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে নাবালিকার পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, নাবালিকার উপর এই জঘন্য অপরাধের জন্য আইন অনুযায়ী কোনও রকম রেয়াত না দিয়ে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিত নাবালিকা মানসিকভাবে অসুস্থ। তার বাবা মা ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। নাবালিকাকে দেখভাল করেন তার দিদিমা। পরিবারের দাবি, মানসিক অসুস্থতার কারণে ওই নাবালিকা মাঝেমধ্যেই বাড়ির আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। তবে সে খুব দূরে যেতে সক্ষম নয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। এদিন তাকে বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।