
বালুরঘাট: ভরদুপুরে জনবহুল এলাকায় অ্যাসিড হামলা! চাঞ্চল্যকর ঘটনা দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার রঘুনাথপুর বিএম হাইস্কুলের সামনে। আক্রান্ত সন্তোষী রজক (৩৯) বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের ইউএসজি বিভাগের এক অস্থায়ী কর্মী বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বার্ন ওয়ার্ডে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।
সূত্রের খবর, শনিবার দুপুরে কাজ সেরে টোটোয় চেপে বড় রঘুনাথপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন সন্তোষী দেবী। অভিযোগ, রঘুনাথপুর বিএম হাইস্কুলের কাছে পৌঁছাতেই স্কুলের পাঁচিলের আড়াল থেকে আচমকা তাঁকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোঁড়া হয়। মুহূর্তেই তাঁর বাম হাত ও বাম পায়ের বেশ কিছুটা অংশ ঝলসে যায়। অ্যাসিডের তীব্রতায় টোটোর কিছু অংশের রং পর্যন্ত চটে গিয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যান টোটো চালক। মহিলার চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি অ্যাসিডের বোতল উদ্ধার করেছে।
আক্রান্তের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষী দেবীর স্বামী ছোটন রজক বালুরঘাট শহর আইএনটিটিইউসি-র (INTTUC) প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। বছর দুয়েক আগে তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে বৃদ্ধা মা ও মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। সন্তোষী দেবীর মেয়ে শ্রেয়সী রজক, মা রামিয়া ভান্ডারির দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই জমি বিক্রি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁদের পরিবারে বিবাদ চলছিল। এমনকি এদিন দুপুরেও দুই অপরিচিত যুবক এসে বৃদ্ধা মাকে হুমকি দিয়ে যায়। পরিবারের প্রাথমিক অনুমান, এই জমি বিবাদের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানিয়েছেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে এমন ঘটনায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে। অভিযুক্তরা কে বা কারা, তা জানতে টোটো চালক পার্থ ঘোষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।