
বালুরঘাট: বালুরঘাটের বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায় মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন। রবিবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ হওয়া তালিকায় রয়েছে হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের নাম। এই খবরে খুশির হাওয়া বালুরঘাটে। নাটকের শহর বলে পরিচিত বালুরঘাট। সেখানকার বাসিন্দা হরিমাধব মুখ্যোপাধ্যায় নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি বহু নাটকের নির্দেশনা করেছে ও নাটক লিখেছেন। এদিকে বিষয়টি জানতে পেরেই রবিবার সন্ধ্যায় হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান বিজেপির টাউন সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্ত সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।
ছেলে কৃষ্ণেন্দু জানিয়েছেন, ছোটবেলায় বাবার হাত ধরেই এই নাটকের জগতে আসা হরিমাধবের। এরপর ১৯৫৪ সালে নিজেরাই ‘তরুন তীর্থ’ নামে একটি দল তৈরি করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে বালুরঘাটে হরিমাধব ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় ‘ত্রিতীর্থে’র জন্ম হয়। ‘ত্রিতীর্থে’র প্রয়োজনা ও হরিমাধবের নিজের লেখা নাটক ও নির্দেশনায় বাংলার বাইরেও সুনাম অর্জন করে একাধিক নাটক। তাঁর জনপ্রিয় নাটকগুলি হল- ‘জল’, ‘দেবাংশী’, ‘অসমাপিকা’, ‘কনন’, ‘বিছন’, ‘গ্যালিলিও’।
তিনটি নাট্য সমগ্রের বই প্রকাশ করেন হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। ছোট, বড়, একাঙ্ক ও পূর্ণাঙ্গ নাটক মিলিয়ে মোট প্রায় ৬০টি নাটক লিখেছেন তিনি। তাঁর নাট্যজগতের নিরলস প্রচেষ্টায় সঙ্গীত নাট্য একাডেমির তরফে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ দীনবন্ধু পুরষ্কার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত থেকে বঙ্গভূষণ, কাঞ্চনজঙ্ঘা পুরস্কার, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট সম্মান সহ একাধিক সম্মান পেয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের ১৭ মার্চ মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তাঁকে ২০১৭ সালে রাজবংশী ভাষায় রক্তকরবী নাটকে শেষবার অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। ২০১৮ সালে শেষবার ‘বন্দুক’ নাটক নির্দেশনায় ছিলেন তিনি। এদিন পদ্মশ্রী পাওয়ার খবরে তাঁর পুরনো ও নতুন বহু সহকর্মীর চোখেই জল দেখা গেল।