Abhishek Banerjee: ‘আমি ভেবে কথা দিই’, ভরা সভায় কেন বললেন অভিষেক?
West Bengal assembly election 2026: বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, "বিজেপি বলে পাল্টানো দরকার, কিন্তু তারা যদি সত্যিই বাংলার ভালো চায়, তাহলে রাজ্যের পাওনা ২ লক্ষ কোটি টাকা ছেড়ে দিক। তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯১ জন প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। কিন্তু তারা উন্নয়ন চায় না, তারা মানুষকে হয়রানি ও বঞ্চিত করতে চায়।"

বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুরে নির্বাচনী প্রচারে এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে উন্নয়ন নিয়ে বিরোধীদের যেমন নিশানা করলেন। তেমনই বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা আটকে রাখার জন্য কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন। কেন্দ্র সাহায্য না করলেও রাজ্যে যে উন্নয়ন থমকে নেই, সেই খতিয়ান তুলে ধরলেন তিনি। তারপরই ভরা সভায় একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে বললেন, “আমি কথা দিলে কথা রাখি। আমি ভেবে কথা দিই। আর কথা দিলে কথা রাখি।”
মঙ্গলবার দুপুরে বালুরঘাট টাউন ক্লাব মাঠে তৃণমূলের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের নির্বাচনী জনসভার প্রধান বক্তা ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মূলত বালুরঘাট ও তপন বিধানসভার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলার ছয়টি আসনের তৃণমূল প্রার্থী, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল সহ অন্যান্য রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বরা।
বালুরঘাটের প্রার্থীকে পাশে নিয়ে এদিন অভিষেক বলেন, “এবারের নির্বাচনে অর্পিতা ঘোষকে জয়যুক্ত করলে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালটিকে মেডিক্যা ল কলেজে উন্নীত করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এবারে ক্ষমতায় এলে জেলায় দুটি হিমঘর তৈরি করা হবে। আমি কথা দিলাম। আমি আমার কথা রাখি। যেমন আমি ধূপগুড়িকে মহকুমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। যা তিন মাসের মধ্যে পূরণ করা হয়েছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বালুরঘাটে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। এবং শঙ্কর চক্রবর্তী বিধায়ক ছিলেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। বালুরঘাটে একটি মেডিক্যাল কলেজের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে শঙ্কর চক্রবর্তী জিতলে একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হবে। আমাদের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করুন এবং আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। এই নির্বাচন কেবল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করার জন্য নয়, বিজেপিকে বিতাড়িত করারও। এটি প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ফল ৬-০ করতে হবে। এই মাটি মাথা নত করবে না। এই মাটি নিজের শিরদাঁড়া বিক্রি করবে না।”
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “আমি আমার রিপোর্ট কার্ড পেশ করেছি। এখন সিদ্ধান্ত আপনার। বিজেপি বলে পাল্টানো দরকার, কিন্তু তারা যদি সত্যিই বাংলার ভালো চায়, তাহলে রাজ্যের পাওনা ২ লক্ষ কোটি টাকা ছেড়ে দিক। তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯১ জন প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। কিন্তু তারা উন্নয়ন চায় না, তারা মানুষকে হয়রানি ও বঞ্চিত করতে চায়।”
এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “বিজেপি যখন ভোট চাইতে আসবে, তাদের বলবেন আপনি তাদেরই ভোট দেবেন। যে ভাবে আপনাদের ঠকায় আপনারাও সেভাবেই ঠকাবেন। বলবেন আপনাদের ভোট দেব। কিন্তু ব্যালট বক্সে ভোটটা তৃণমূল কংগ্রেসকেই দেবেন। তারা বুথ ম্যানেজমেন্টের জন্য টাকা দিচ্ছে। আমি শুনেছি তারা আমাদের কিছু বিএলএদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমি বলব, বিজেপি টাকা দিলে টাকাটা নিয়ে নিন। ওটা আপনাদেরই টাকা। বিজেপির টাকা নেবেন কিন্তু ভোট দেবেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। রেজাল্টের দিন নিশ্চিত করুন যে ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ৬-০ হয়।” সবশেষে তিনি বলেন, “আমার লোকসভার পাশাপাশি বালুরঘাটের দায়িত আমি নিচ্ছি। আমি আমার সাধ্যমত এই এলাকার জন্য কাজ করব। এই অঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব আমার।”
