
তপন: দক্ষিণবঙ্গে যখন সিপিএম (CPM) ছেড়ে এসে তৃণমূলে (TMC) যোগ দিয়েছেন প্রতীক-উর রহমান, সেই সময় উত্তরে বাম নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রাতের বেলা নির্বাচনী দেওয়াল লেখার সময় সিপিআইএম নেতা কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সিপিআইএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক দিলীপ বিশ্বাস সহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার মধ্য রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন থানার আউটিনা গ্রাম পঞ্চায়েতের লস্করহাট এলাকায়। রাতেই আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য তপন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে তপন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও রিসিভ কপি দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ সিপিএম-এর।
সিপিএম নেতা কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী জয়দেব হেমরম সহ তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে। যদিও পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি,তাঁদের ধরা দেওয়ালে লিখছিল সিপিআইএম নেতারা। এর প্রতিবাদ করলে তাঁরাই তৃণমূলের লোকজনদের গায়ে চুন রঙ ছুড়ে দেয়। এরপরই দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে তৃণমূলের কেউ মারধর করেনি। প্রয়োজনে তারাও পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে তপন থানার পুলিশ।
বস্তুত, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তপনের লস্করহাট এলাকায় দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করেছিল সিপিএম নেতৃত্বরা। সেই দেওয়াল লিখন করাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়। সিপিএমের অভিযোগ, তাঁদের ধরা দেওয়াল দখল করে তৃণমূল। সেই দেওয়ালে নির্বাচনী প্রচার লিখতে শুরু করেন। তখনই প্রতিবাদ করেন বাম নেতা কর্মীরা। আর তারপরই তাঁদের উপর হামলা করা হয়। হামলা করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সহ তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে।
এদিকে নির্বাচনের আগে শাসকদলের এমন কর্মকাণ্ডকে কটাক্ষ করেছে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। নির্বাচন যত এগিয়ে আসে তৃণমূল ভয় পাচ্ছে এই কারণে এসব কান্ড করছে বলেই বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী দাবি করেছেন।
তপনের সিপিএম সম্পাদর দিলীপ বিশ্বাস বলেন, “দেওয়াল লিখনের সময় আরও অনেক তৃণমূলের নেতারা এসে আমার উপর আক্রমণ করেন। তাঁর প্রচন্ড মেরেছে আমাদের। আইসি-কে বিষটা জানাই। ডাক্তার দেখাই।” জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সদস্য সুভাষ চাকি বলেন, “এই দেওয়াল আগে তৃণমূলের ছিল। বাড়ির মালিক মৌখিকভাবে দেওয়াল লেখার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূলই সেটা দখল করে।“