Amit Shah in Siliguri: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার সময় এসেছে’, তীব্র আক্রমণ অমিতের
Amit Shah: অমিত শাহ বলেন, "দুর্ভাগ্যের বিষয় এই নিয়ে যখন সংসদে চর্চা হয়েছিল তখন তৃণমূল বিরোধ করল। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি কেন ওরা বিরোধিতা করছিল। আমি তারপর ওদেরই সাংসদকে বললাম, কেন ভাই তোমরা এই গান নিয়ে চর্চার বিরোধিতা করছ? তখন ওদের ওই সাংসদ বললেন, আসলে আমাদের এখানকার অনুপ্রবেশকারীরা এই গান পছন্দ করে না তাই বিরোধিতা করছি। লজ্জা করো তোমরা। ভোট ব্যাঙ্কের জন্য বন্দে-মাতরমের বিরোধিতা করছ। ২০২৬-এর ভোটে জনতা তোমাদের বোঝাবে। মা-মাটি-মানুষের আবগে শান দিয়ে এসেছিলেন। এখন মা অসুরক্ষিত। মাটি দখল করেছে অনুপ্রবেশকারীরা।"

অমিত শাহImage Credit: Tv9 Bangla
ভোটের আগে-আগে বারেবারে বাংলায় আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কোনও ভাবে যে বাংলার মসনদ বিজেপি হাতছাড়া করবেন না সেইটাই বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি। আজ প্রথমে ব্যারাকপুরে যান অমিত শাহ। সেখান থেকে আক্রমণ শানান। পরবর্তীতে রয়েছেন শিলিগুড়িতে। এক নজরে অমিত শাহ কী কী বললেন দেখুন…
সর্বশেষ তথ্য উপরে…
- অমিত শাহ: আমরা বিজেপি কাজ করে ভোট জিতি।বুথের শক্তিবৃদ্ধি। রাজ্য বাজেটে উত্তরে কত দেন মমতা? মোদী টাকা দিয়েছেন উত্তরে। দিদির কাছে উত্তরবঙ্গ খালি সোনার ডিম পাড়া মুরগি। দিদি আপনার টাটা-বাইবাই হয়ে গেছে।
- অমিত শাহ: উত্তরবঙ্গে বড় ষড়যন্ত্র চলছে। শিলিগুড়ি গেটওয়ে পুরো দেশ খুব ভালবাসে। বাংলাকে দেশ ভালবাসে। শিলিগুড়িকে েবশি ভালবাসে কারণ নর্থ ইস্ট যাওয়া যায়। দিল্লিতে কয়েকজন লোক চিকেন নেক কেটে দেবে বলছিল। কেন তোমার বাপের জমি? ভারতের জমি। দিল্লীর পুলিশ জেলে পুড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ওদের আবেদন খারিজ করেছে।
- অমিত শাহ: কমিশনকে মমতা সরকার সমর্থন করছে না। আমরা সুনিশ্চিত করব ভোটার লিস্ট শুদ্ধিকরণ হোক। উত্তরবঙ্গে এইমস হওয়া উচিত।মমতা আটকালেন এইমসের ভূমি। এয়ারপোর্টের প্রোজেক্ট মমতা আটকে রেখেছিলেন। বাংলায় চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার দেব।চা বাগান কম্পানীর হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। ওদের দেশলাই কাঠির মতো ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে। অসমে তো চা শ্রমিকদের বিজেপি সুরক্ষা দিচ্ছে।
- অমিত শাহ: মমতা দি জমি দিলে দিন, নয়ত না দিন এপ্রিলে বিজেপি ক্ষমতায় এসে ৪৫ দিনে বিএসএফকে জমি দেবে। এই অনুপ্রবেশ পুরো দেশের সুরক্ষার বিষয়। বাংলায় খুঁজে খুঁজে ফেরত পাঠাবো অনুপ্রবেশকারীদের। এসআই আর নিয়ে এত চিন্তা এই কারণে।
- অমিত শাহ: আমি বলেছিলাম বিএসএফকে জমি দিতে। দেয় না। সাতবার চিঠি দিয়েছি। সচিব ৭ বার গেছেন সচিবালয়ে। জমি দেননি। ইচ্ছা করে এই জায়গাগুলি খোলা রেখেছেন যাতে অনুপ্রবেশকারী ঢোকে। আমি বলছি কেন দেন। জাল সার্টিফিকেট দেওয়া হয় ওইখান থেকে। বাংলার সরক্ষা শুধু না,দেশের সুরক্ষায় বিপদ অনুপ্রবেশকারী। জমি দিন মমতা। বিএসফকে জমি দিন। রাজস্থান-অসমে বিজেপি সরকার আছে তাই অনুপ্রবেশকারী নেই। তাই বিজেপিকে আনুন তাতে পাখিও ডানা ঝাপটাতে পারবে না।
- অমিত শাহ: আপনার চোখে ভাইপোর ভালবাসার মোতিয়াবিম্ব হয়েছে। তাই দুর্নীতি দেখতে পান না। চাকরী দুর্নীতি,এসএসসি দুর্নীতি, নগরপালিকা দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, গরুপাচার, আবাস যোজনার দুর্নীতি আপনার শাসনে হয়েছে। আর আপনি বলছেন দুর্নীতি হয়নি? আপনার কতজন সঙ্গী জেলে গেছে। পার্থ-জ্যোতিপ্রিয়-জীবনকৃষ্ণ-অজিত মাইতি-পরেশ পাল-আরাবুল-ফিরহাদ-কুণাল ঘোষ সব জেলে গেছেন। এদের দুর্নীতি চোখে পড়ে না। আর আপনি যদি দুর্নীতি সমর্থন না করেন তাহলে এই ২৩ জনকে টিকিট দেবেন না। আমি জানি উনি এদেরই টিকিট দেবে। আর এদের টিকিট না দিলে ভাইপোর নাম বলে দেবে। তাই দেবে। তবে বাংলা দুর্নীতি মুক্ত হবে।
- অমিত শাহ: ওড়িশায় প্রথম বিজেপির সরকার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, অরুণাচলে হ্যাট্রিক। বিহারে পাঁচবার জিতেছি। আমাদের ৬০ জন কার্যকর্তাকে তৃণমূল মেরে ফেলেছে।
- অমিত শাহ: তৃণমূলকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। শুধু হারালেই চলবে না। ২০২৬ এর বছর বাংলায় পরিবর্তন আসবে। ২০১৪ৃ৩ ত্রিপুরায় বামেরা ছিল, আধা ভোট পেয়েছিলাম। পরের নির্বাচনে ওদের হটিয়ে বিজেপি এসেছিল। অসমেও তাই হয়েছে। রাম যখন রামসেতু বানিয়ে লঙ্কায় ঢুকেছিলেন, সেই সময় রাবণ হেসেছিল। ধীরে ধীরে সোনার লঙ্কা শেষ হয়েছে। ২০১৬-তে ১০ শতাংশ ভোট তিনটে পেয়েছিলাম। ২০২১ এ ৭০ সিটে পেয়েছিলাম। শুভেন্দু বিরোধী দলনেতা হলেন। বামেরা শূন্য। আমাদের ৪৬ শতাংশ দরকার। এটা উত্তরবঙ্গ করে দেবে। এখানে ২৮ সিট আছে। এখানে এই ২৮টাই পেতে হবে। শুভেন্দু বিমানে বলেছিলেন কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা আছে। তবে আমি আশ্বাস দিয়েছি এই সিটটাও বিজেপি জিতবে।
- অমিত শাহ: এখন তোলাবাজিতে মানুষ বিরক্ত। আমাদের আদিবাসী সাংসদকে মারা হয়। গোর্খাদের উপর খালি কেস দেওয়া হয়। বাঙালি, গোর্খা, আদিবাসী সবাই অসুরক্ষিত।
- অমিত শাহ: দুর্ভাগ্যের বিষয় এই নিয়ে যখন সংসদে চর্চা হয়েছিল তখন তৃণমূল বিরোধ করল। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি কেন ওরা বিরোধিতা করছিল। আমি তারপর ওদেরই সাংসদকে বললাম, কেন ভাই তোমরা এই গান নিয়ে চর্চার বিরোধিতা করছ? তখন ওদের ওই সাংসদ বললেন, আসলে আমাদের এখানকার অনুপ্রবেশকারীরা এই গান পছন্দ করে না তাই বিরোধিতা করছি। লজ্জা করো তোমরা। ভোট ব্যাঙ্কের জন্য বন্দে-মাতরমের বিরোধিতা করছ। ২০২৬-এর ভোটে জনতা তোমাদের বোঝাবে। মা-মাটি-মানুষের আবগে শান দিয়ে এসেছিলেন। এখন মা অসুরক্ষিত। মাটি দখল করেছে অনুপ্রবেশকারীরা।
- অমিত শাহ: বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর। বঙ্কিম চন্দ্রের রচনার এই বন্দে মাতরম শুধু গান নয়, ভারতের আবেগ। রবীন্দ্রনাথ প্রথম গেয়েছিলেন এই গান। ধীরে ধীরে এই গান স্বাধীনতার গান হয়ে গেল। সব বিপ্লবীদেরা নিজেদের জীবন শেষের আগে এই বন্দে-মাতরম উচ্চারণ করেছিলেন। ১৫০ বছর আগে এই গান দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছিল। আর ১৫০ বছর পর এই গানই ভারতকে বিশ্ব গুরুর আসনে বসাবে।
- অমিত শাহ: বাংলা ক্রমেই পিছিয়ে গিয়েছে। প্রথমে কমিউনিস্ট পার্টি পিছিয়ে নিয়ে গেছে। এরপর মা-মাটি-মানুষের ভাবাবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে আরও পিছিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আমি বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, মমতার চেয়ে বামেরা ভাল ছিল। পুরো প্রদেশে বাঙালিদের গোর্খাদের সঙ্গে লড়িয়েছে, রাজবংশীদের বাঙালিদের সঙ্গে লড়িয়েছে, কুড়মিদের লড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গের ভূমি থেকে বলছি, মমতাদি আপনার সময় শেষ। আর এরপর নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিবেকানন্দ আর রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের কল্পনার সোনার বাংলা তৈরি হবে।
- অমিত শাহ: বাংলায় সভা করতে গেলে হাইকোর্টে যেতে হয়। তাই বিজেপি এই ধরনের বড় সভার আয়োজন করেছে। তৃণমূলের যত সভা হয় আমাদের তত শুধু কার্যকর্তাদের সম্মেলন হয়। এটাই বলে দিচ্ছে মমতাদির যাওয়ার সময় এসে গেছে।
