AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Nipah Virus in Bengal: শিলিগুড়ি জ্বরই নাকি নিপা ভাইরাস! বাম জামানায় ‘মৃত্যু মিছিল’ দেখেছিল বাংলা

Siliguri-Nipah Virus: যে চিকিৎসকেরা সেই সময়ে শহরে ছিলেন তাঁরাও জানিয়েছেন সেই অভিজ্ঞতার কথা। চিকিৎসকদের দাবি, এই রোগের মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি দরকার সংস্পর্শে আসা মানুষকে চিহ্নিত করা। সামান্য ভুলচুক হলেই বিপদ বাড়তে পারে। প্রাণ কাড়তে পারে ঘাতক ভাইরাস।

Nipah Virus in Bengal: শিলিগুড়ি জ্বরই নাকি নিপা ভাইরাস! বাম জামানায় 'মৃত্যু মিছিল' দেখেছিল বাংলা
Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jan 13, 2026 | 3:21 PM
Share

শিলিগুড়ি: হঠাৎ ঘরে ঘরে জ্বর। পরপর মৃত্যু। আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে শিলিগুড়ির মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৪৯ জনের প্রাণ চলে গিয়েছিল। ডাক্তাররা কিছু বুঝে উঠতে না পেরে নাম দিয়েছিলেন ‘শিলিগুড়ি জ্বর’। ২০০৬ সালে জানা যায়, সেটাই ছিল ভারতের প্রথম নিপা ভাইরাস সংক্রমণ। আক্রান্ত হয়েছিলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য়কর্মীসহ অনেকেই। এবার ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলায়। আক্রান্ত হয়েছেন দু’জন।

জানা যায়, সেবার বাংলাদেশ থেকে জ্বরে আক্রান্ত এক রোগীর মাধ্যমেই নিপা সংক্রমণ ছড়িয়েছিল বাংলায়। শিলিগুড়িতে শুরু হয়েছিল মৃত্যুমিছিল। অজানা জ্বরে পরপর মৃত্যুতে প্রাথমিকভাবে এই মারণ জ্বরকে সে সময়ে চিহ্নিতই করা যায়নি। অঘোষিত কার্ফু জারি হয়েছিল শহরে। চিকিৎসকদের কেউ কেউ বলছেন সে অভিজ্ঞতা ছিল কোভিডের চেয়েও ভয়ঙ্কর।

বহু চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি সেই সময়ে রাতারাতি শহর ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তখন শহরে লড়াই শুরু করেছিলেন তৎকালীন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অশোক ভাট্টাচার্য। আজও সেই সময়ের কথা স্পষ্ট মনে আছে তাঁর। তিনি বলছেন, “আমরা চোখের সামনে দেখছি ডাক্তাররা পালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাচ্ছে। সেই সময় কনফিডেন্স দেওয়াটাই ছিল সবথেকে জরুরি। কার্ফুর মতো অবস্থা হয়েছিল।” তিনি জানান, আক্রান্তদের জ্বর আসত, কাঁপুনি দিত। অনেক পরে জানা যায় এটা নিপা ভাইরাস।

যে চিকিৎসকেরা সেই সময়ে শহরে ছিলেন তাঁরাও জানিয়েছেন সেই অভিজ্ঞতার কথা। চিকিৎসকদের দাবি, এই রোগের মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি দরকার সংস্পর্শে আসা মানুষকে চিহ্নিত করা। সামান্য ভুলচুক হলেই বিপদ বাড়তে পারে। প্রাণ কাড়তে পারে ঘাতক ভাইরাস। চিকিৎসক সুবল দত্ত বলছেন, “সেই পরিস্থিতি প্রচণ্ড ভয়াবহ। বহু বিশিষ্ট মানুষের মৃত্যু হয়। করোনা ভাইরাসকেও হার মানিয়ে দিয়েছিল সেই সংক্রমণ।” যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সবটা সামলেছিলেন তাঁরা।

তবে বছর ২৬ পর এখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেক উন্নত। ফলে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগেভাগেই একযোগে কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রতিনিধিদল রাজ্যে এসেছে। নদিয়া সহ নানা এলাকায় কন্টাক্ট ট্রেসিং কেমন চলছে তা দেখছে ওই দল। রাজ্যের সঙ্গে কথা বলেছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। রাজ্যের তরফেও সতর্ক করা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ফের নিপা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে বারাসত।