Siliguri: গ্যাস বিপদে পড়তেই হাসছে ঘুঁটে, কেন জানেন?
Gas Cylinder crisis: শুধু ঘুঁটে কিনতে নয়, ক্রেতারা উনুন কিনতেও এখানে ভিড় করছেন। দেখা গেল, রাস্তার ধারে টিন কেটে মাটি দিয়ে উনুন বানানো চলছে। কয়েকজন ক্রেতা বললেন, "গ্যাসের সংকট কবে মিটবে জানি না। তাই উনুন কিনতে এসেছি।" ক্রেতাদের কেউ ঘুঁটে কিনছেন। কেউ বা কয়লা কিনছেন।

শিলিগুড়ি: ‘বড়োবউ মেজোবউ মিলে ঘুঁটে দেয় ঘরের পাঁচিলে।’ ‘সহজ পাঠ’-এ ঘুঁটের গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই ঘুঁটে ধীরে ধীরে ‘সমাজচ্যুত’ হল। গৃহস্থের হেঁসেল থেকে হারিয়ে যেতে থাকে। আর তার জায়গা নেয় গ্যাস সিলিন্ডার। ঘুঁটের সেই হারিয়ে যাওয়ার সময় হেসেছিল গ্যাস। আজ যেন ঘুঁটের বদলা নেওয়ার সময়। গ্যাস বিপদে পড়তেই হাসছে ঘুঁটে। গ্যাসের এই সংকটে বেড়েছে ঘুঁটের গুরুত্ব। শিলিগুড়ির বাজারে সেই ছবিই ধরা পড়ল।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে গৃহস্থের হেঁসেলে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে হোটেল, হেঁসেলে জায়গা করে নিচ্ছে উনুন। কাঠ-কয়লা আর ঘুঁটে ফিরছে হেঁসেলে। শিলিগুড়িতে ঘুঁটে বাজারে ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। এসএফ রোড পেরিয়ে বর্ধমান রোড। এখানে রাস্তার দু’পাশে পাওয়া যাচ্ছে ঘুঁটে। কত দামে বিক্রি হচ্ছে ঘুঁটে? বিক্রেতারা বলছেন, আগে এক-একটা ঘুঁটের দাম ছিল ২ টাকা। আর এখন ১০ টাকায় ৪টা ঘুঁটে। অর্থাৎ এক-একটা ঘুঁটের দাম বেড়েছে ৫০ পয়সা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্যাসের সংকটে ঘুঁটের দোকান বেড়েছে। আগের থেকে বেশি সংখ্যক বিক্রেতা এখানে বসছেন। দিনভর গোবর সংগ্রহ করে ঘুঁটে বানিয়ে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, আগের থেকে তাঁদের বিক্রি বেড়েছে।
শুধু ঘুঁটে কিনতে নয়, ক্রেতারা উনুন কিনতেও এখানে ভিড় করছেন। দেখা গেল, রাস্তার ধারে টিন কেটে মাটি দিয়ে উনুন বানানো চলছে। কয়েকজন ক্রেতা বললেন, “গ্যাসের সংকট কবে মিটবে জানি না। তাই উনুন কিনতে এসেছি।” ক্রেতাদের কেউ ঘুঁটে কিনছেন। কেউ বা কয়লা কিনছেন।
ঘুঁটের এই চাহিদা বাড়া নিয়ে কেউ কেউ বললেন, কথায় আছে, ঘুঁটে পোড়ে, গোবর হাসে। একসময় ঘুঁটে হারিয়ে যাওয়ায় হেসেছিল গ্যাস। আর আজ গ্যাসের দুর্দিনে হাসছে ঘুঁটে।
