উত্তরকন্যা অভিযানে শামিল সব প্রথম সারির বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর

এফআইআর-এ বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের নাম নেই। এ বাদে সকল বিজেপি নেতাদের নামেই দায়ের হয়েছে এফআইআর। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার পাশাপাশি একাধিক গুরুতর ধারায় দায়ের হয়েছে মামলা।

উত্তরকন্যা অভিযানে শামিল সব প্রথম সারির বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর

শিলিগুড়ি: মঙ্গলবার বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানে শামিল সকল বিজেপি (BJP) নেতার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় (FIR) তিনটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। শিলিগুড়ি নিউ জলপাইগুড়ি থানায় এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও এফআইআর-এ বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের নাম নেই। এ বাদে সকল বিজেপি নেতাদের নামেই দায়ের হয়েছে এফআইআর। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার পাশাপাশি একাধিক গুরুতর ধারায় দায়ের হয়েছে মামলা।

সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ অভিযানে অংশ নেওয়া সিংহভাগ নেতার নামেই দায়ের হয়েছে এইআইআর। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সর্বভারতীয় সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সর্বভারতীয় যুব মোর্চা সভাপতি তেজস্বী সূর্য, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, সায়ন্তন বসু-সহ একাধিক বিজেপি নেতার নাম রয়েছে এফআইআর-এ। সুয়ামোটো এই মামলায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিস কর্মীদের খুনের চেষ্টা, সরকারি সম্পত্তিতে আগুন দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা, রাস্তা অবরোধ করার মতো একাধিক মামলায় জামিন অযোগ্য ধারায় দায়ের হয়েছে তিনটি মামলা।

আরও পড়ুন: দলীয় কার্যালয়ে বসবেন না শুভেন্দু! নন্দীগ্রামে নিজস্ব কার্যালয় খুললেন প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী

গতকাল বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে তুলকালাম হয় উত্তরবঙ্গে। মৃত্যু হয় এক বিজেপি কর্মীর। সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিলিগুড়ি। শহরে ঢোকার মুকে বিভিন্ন রাস্তায় দফায়-দফায় পুলিসের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে তরাই-ডুয়ার্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কাঁদানে গ্যাসের শেল, জলকামান, লাঠি, রাবার বুলেট আর ইটবৃষ্টিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় তিনবাত্তি এবং ফুলবাড়ি মোড়। বিজেপি কর্মীরা ব্যারিকেড ভাঙা শুরু করতেই পুলিস জলকামান চালানো শুরু করে। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেলও। তাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তেজস্বী, তাঁকে দ্রুত গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।  প্রথমে দিলীপ-সায়ন্তনদের সঙ্গে বচসা হয় পুলিসের। পরে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হতেই ফুলবাড়ি মোড়েও কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট চলতে শুরু করে। সায়ন্তনের দাবি, পুলিস সেখানে গুলিও চালিয়েছে। বেশ কয়েকজন কর্মীর মাথা ফেটেছে ও হাত-পা ভেঙেছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন: দলীয় কার্যালয়ে বসবেন না শুভেন্দু! নন্দীগ্রামে নিজস্ব কার্যালয় খুললেন প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী