Bank Account: এই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থাকলেই ঢুকছে ৭৫৯ কোটি টাকা! কেন ঢুকছে জেনে নিন
Rs 760 crore in bank account: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, এটা নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। কোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে একটা টেকনিক্যাল গ্লিচ তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের আরও দাবি, বিপুল অঙ্কের টাকাই হোক বা কম অঙ্কের টাকা, গ্রাহকের কাছে যেমন টাকা ঢোকার মেসেজ আসবে, তেমনই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও তা এন্ট্রি হবে।

প্রসেনজিত চৌধুরী, রিয়া ও নীলেশ্বর সান্যালের রিপোর্ট
কোচবিহার, জলপাইগুড়ি: কেউ স্কলারশিপের টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। কেউ আবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না দেখতে গিয়েছিলেন। কেউ আবার অ্যাকাউন্ট চেক করতে যান। কিন্তু, ব্যালেন্স দেখেই তো চক্ষু চড়কগাছ। একের পর এক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ৭০০ কোটির বেশি। কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে সাধারণ দিন আনা দিন খাওয়া বা দশম বা দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে। বেশিরভাগ অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ৭৫৯ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫১ হাজার ৯৫১ টাকা। মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়ি, থেকে ময়নাগুড়ি, কোচবিহার…সর্বত্র একই ছবি। আরও তাজ্জব ব্যাপার হল সকলেরই অ্যাকাউন্ট একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে রয়েছে। সম্প্রতি, এই ঘটনা শোরগোল ফেলে দিয়েছে চারিদিকে।
কোচবিহারের ঘটনা
কোচবিহারের বাসিন্দা সুকুমার অধিকারী। সাধারণ হোটেল চালান তিনি। ৫০০ টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, ব্যালেন্স দেখতে গিয়ে অবাক হয়ে যান তিনি। দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৭০০ কোটির বেশি। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে তিনি ঘাবড়ে যান। পরে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে, দিনহাটাতে এক দশম শ্রেণির ছাত্র স্কলারশিপের টাকা তুলতে গিয়েছিল। সেখানও একই পরিস্থিতি। দিনহাটা থানায় অভিযোগও দায়ের করে তার পরিবার। শনিবার ও রবিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায় ব্যাঙ্কে যেতে পারেননি কেউ। সোমবার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক খুলতেই লাইন পড়ে যায় এই ধরনের গ্রাহকদের।
জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ির ঘটনা
হলদিবাড়ির ছাত্রী। স্কলারশিপের টাকা ঢুকেছে কি না দেখতে গিয়েছিল ব্যাঙ্কে। সেও দেখে তার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে সেই একই অঙ্কের টাকা। আবার ময়নাগুড়িতে এক গৃহবধূ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তুলতে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। সেখানেও একই ঘটনা।
মুর্শিদাবাদের ঘটনা
মুর্শিদাবাদে লালগোলা থানার বিলবোরাকোপরা অঞ্চলের কালিকাপুর গ্রামেও একই ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফা খাতুনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গত শনিবার চেন্নাই থেকে ৩,০০০ টাকা পাঠান তাঁর দেওর। সেই টাকা তুলতে গিয়েই শরিফা খাতুন দেখেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্সের জায়গায় জ্বলজ্বল করছে ৭,৫৯,৬৯,৫১,৯৫১ টাকা ১৬ পয়সা। তাঁরও অ্যাকাউন্ট রয়েছে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে।
ব্যাঙ্ক কী বলছে?
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, এটা নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। কোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে একটা টেকনিক্যাল গ্লিচ তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের আরও দাবি, বিপুল অঙ্কের টাকাই হোক বা কম অঙ্কের টাকা, গ্রাহকের কাছে যেমন টাকা ঢোকার মেসেজ আসবে, তেমনই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও তা এন্ট্রি হবে। কিন্তু ওই বিপুল পরিমাণ টাকা আদতে ব্যাঙ্কে ক্রেডিট হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ওই টাকা কোনওভাবেই তোলা যাবে না। ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের দাবি, অনলাইনে যাঁরা ব্যাঙ্কে লেনদেন করেন, বা নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মতো পরিষেবা ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তবে, কোন জায়গায় গ্লিচ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরকম ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে, সেটা সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
অ্যাকাউন্টে এভাবে কোটি কোটি টাকা কোনও সাইবার প্রতারণাও হতে পারে। এই বিষয়ে সাইবার বিশেষজ্ঞ সাম্যজিৎ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রতারণা বেড়েছে। যাঁরা প্রতারক, তাঁরা এই সময় অনেক বেশি সক্রিয় থাকেন। বিভিন্ন অ্যাপ যা এখন ভারতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেগুলি চালিয়ে তাঁরা ব্যবসা করছে। তাঁর আরও দাবি, এই ধরনের টাকাগুলি আসলে বেশিরভাগই প্রতারণার টাকা। প্রতারকরা বাঁচার জন্য বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠিয়ে দেয়। এধরনের ঘটনা গুজরাট ও ব্যাঙ্গালোরেও ঘটেছে। এটা সত্যি চিন্তার বিষয়। সেক্ষেত্রে, সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। তাঁর পরামর্শ, এধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে প্রথমে থানায় জানাতে হবে। তারপর নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কে যেতে হবে।
সাম্যজিতের আরও দাবি, টেকনিক্যাল গ্লিচ হলেও এত টাকা কীভাবে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যেতে পারে? সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কে আপনার টাকা আদৌ সুরক্ষিত কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেক্ষেত্রে এটা জালিয়াতি চক্র নাকি ব্যাঙ্কের ত্রুটি সেটা খতিয়ে দেখতে হবে বলে মনে করছেন তিনি।
