Hooghly: ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো’, দল বেঁধে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন
SIR in Bengal: এই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে BJP-র আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, "এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বাচন দফতরের কাজ। আর এটা রাজ্য সরকারের গাফিলতি। রাজ্যের কাছে ১০০০ জন চাওয়া হয়েছিল। দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এআই-র সাহায্য নিতে হয়েছে। আর যাঁদের নাম ট্রাইবুনালে রয়েছে, সঠিক পরিচয়পত্র থাকলে এবার ভোট দিতে না পারলেও পরেরবার পারবেন। একটি রাজনৈতিক দলের চক্রান্তে নাটক চলছে।"

আরামবাগ: ভোটার লিস্টে নাম বাদ গিয়েছে। এখন ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁদের বক্তব্য, চরম হতাশা ও মানসিক অশান্তির মধ্যে দিন কাটছে। এই পরিস্থিতিতে এসডিও-র মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন হুগলির আরামবাগের বেশ কয়েকজন। তাঁদের বক্তব্য, ডিটেশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো। বিজেপির কটাক্ষ, তৃণমূলের চক্রান্তে একটা নাটক হয়েছে।
সোমবার আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দীর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন আরামবাগ এসডিও-র কাছে যান। সারা গায়ে তাঁদের যাবতীয় তথ্য সেঁটে, পদযাত্রা করে এসডিও অফিসে যান। তার মধ্যে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকাও আছেন। আবার কারও যাবতীয় তথ্য আছে। কিন্তু নাম বাতিল।
জানা গিয়েছে, আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০৬ জনের নাম বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে তাইবুন্নেসা বেগম নামে একজন প্রাক্তন শিক্ষিকাও রয়েছেন। তিনি ২০ বছর গোঘাট ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পদে ছিলেন। মোট ৩৪ বছর সরকারি চাকরি করেছেন। তাঁর স্বামী আরামবাগ গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁদের নিজেদের পেনশনের কাগজপত্র রয়েছে। পাসপোর্ট আছে। এর পাশাপাশি যাবতীয় তথ্য আছে।
এদিন মহকুমাশাসকের কাছে রাষ্ট্রপতিকে লেখা একটি আবেদনপত্র জমা দেন তাইবুন্নেসারা। আবেদন জমা দেওয়ার পর তাঁরা বলেন, “সব নথি থাকার পরও নাম বাদ দিয়েছেন। এখন ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠালে কী হবে? ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো। সেই জন্য এসডিও-র মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে আমরা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছি।” তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী।
এই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে BJP-র আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বাচন দফতরের কাজ। আর এটা রাজ্য সরকারের গাফিলতি। রাজ্যের কাছে ১০০০ জন চাওয়া হয়েছিল। দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এআই-র সাহায্য নিতে হয়েছে। আর যাঁদের নাম ট্রাইবুনালে রয়েছে, সঠিক পরিচয়পত্র থাকলে এবার ভোট দিতে না পারলেও পরেরবার পারবেন। একটি রাজনৈতিক দলের চক্রান্তে নাটক চলছে।”
