হুগলি : নাম তার রসগোল্লা। বয়স এগারো মাস। লম্বা কান, গোল গোল চোখের ছোট্ট বিড়ালটি (Cat) সকলের আদরের। সেই কি না তিনদিন আগে আচমকা আম গাছের মগডালে উঠে পরে। কিন্তু, আর নামতে পারেনি। গাছের মাথা থেকে তার ম্যাও ম্যাও ডাক শুনে চিন্তায় পড়ে যান সকলে। উদ্বেগ বাড়ে চুঁচুড়া বেলতলা চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা অরুনিমা পালের। তারই প্রিয় পোষ্য রসগোল্লা। খবর যায় দমকলে, খবর যায় বন দফতরে। কিন্তু, অরুণিমা দেবীর দাবি, কোথা থেকেই মেলেনি কোনও সাহায্য। শেষে তিনদিন পর সাহায্যের হাত বাড়াল পুলিশ।
অরুণিমা দেবী জানাচ্ছেন এখনও এক বছরও বয়স হয়নি রসগোল্লার। জন্মের পর থেকেই খুব ছটফটে। সবার চোখের আড়ালে গাছ বেয়ে কখন মগডালে উঠে পড়েছিল তা দেখতে পাননি কেউই। দেখার পর নিজেরা চেষ্টা করেন নামাতে। কিন্তু ব্যর্থ হন। অভিযোগ, বন দফতরকে ফোন করলে সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় বিড়াল বন্য প্রাণী নয় তাই তাড়া সাহায্য করতে পারবে না। তখন পোষ্যের চিকিৎসকের সাহায্যে চুঁচুড়া থানার যান অরুণিমা দেবী। শেষে পুলিশের তরফে খবর দেওয়া হয় দমকলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দমকল কর্মীরা গিয়ে গাছে উঠে রসগোল্লাকে উদ্ধার করেন। হুগলি দমকল কেন্দ্রের ওসি দেবাশিষ বিশ্বাস বলেন, “থানা থেকে খবর পাওয়ার পরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সুরক্ষিতভাবেই বিড়ালটিকে গাছ থেকে নামাই। অনেক সময় মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদের উদ্ধারেও দমকলের ডাক পরে। এটা আমাদের কাজ অবশ্যই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা প্রোটোকল মেনে কাজ করার চেষ্টা করি।”
ঘটনা প্রসঙ্গে অরুণিমা পাল বলেন, “আজ তিনদিন ধরে গাছে আটকে ছিল। আমি প্রথমে দমকলে ফোন করি। তারপর বন দফতরে ফোন করি। যদিও সেইভাবে কোনও জায়গা থেকেই কোনও সাহায্য পাইনি। কাউন্সিলরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলাম। অবশেষে আজ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পুলিশ দমকলে খবর দেয়। ওরাই এসে বিড়ালটিকে উদ্ধার করে।” শেষ পর্যন্ত রসগোল্লাকে আবার কোলে ফিরে পেয়ে খুশি অরুণিমা দেবীর পরিবারের সদস্যরাও। হাসি ফুটেছে অরুণিমা দেবীর মুখে। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সেও দেখতে পাওয়া যায় একই ছবি। বহুতলের মাথায় আটকে পড়ে একটা বিড়াল। শেষে দমকল কর্মীদের তৎপরতায় উদ্ধার করা হয় বিড়ালটিকে।