মমতা বলেন, "সিঙ্গুর আমার ফেভারিট জায়গা। দিনের পর দিন এখানে পড়ে থেকেছি। এই মাটি আঁকড়ে ছিলাম। ২৬ দিন অনশন করেছি।" সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে 'SIR' নিয়ে লেখা তাঁর কবিতা পাঠ করে শোনালেন। হেলিকপ্টারে যেতে যেতে কবিতা লেখেন তিনি। মঞ্চে কবিতা পাঠ মমতার। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর করে মানুষ মারার চক্রান্ত হচ্ছে।
হুগলি: প্রধানমন্ত্রীর সভার ১০ দিন পর সিঙ্গুরে সভা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। চার বছর পর আবার সিঙ্গুরে মমতা। কী কী বললেন, দেখুন এক নজরে….
KEY HIGHLIGHTS
সিঙ্গুরের মাটিতে মমতা: সিঙ্গুর আমার ফেভারিট জায়গা। দিনের পর দিন এখানে পড়ে থেকেছি। এই মাটি আঁকড়ে ছিলাম। ২৬ দিন অনশন করেছি।
SIR: সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘SIR’ নিয়ে লেখা তাঁর কবিতা পাঠ করে শোনালেন। হেলিকপ্টারে যেতে যেতে কবিতা লেখেন তিনি। মঞ্চে কবিতা পাঠ মমতার। এসআইআর-এর নামে মানুষকে মারার চক্রান্ত হচ্ছে। তিন দিনে ২৬টা কবিতা লিখেছিলাম। বইটার নাম ‘স্যর বাংলায়’। ইংরাজিতে SIR।
বাংলার বাড়ি: এখানে সমস্ত জেলা মিলিয়ে মোট ১৬৯৪টি পরিষেবা উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। যার জন্য মোট খরচ হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। বাংলার বাড়ি আগেও ১ কোটি করেছি। কিছুদিন আগেও ১২ লক্ষ পরিবারকে দিয়েছি, আজ ২০ লক্ষ মানুষের কাছে ব্যাঙ্কে টাকা পৌঁছে যাবে। মানে ২ মাসে সংখ্যাটা ৩২ লক্ষ! কেন্দ্র এক পয়সাও দেয় না। বাকি যা থাকবে, আগামী দিনে দফায় দফায় হবে। দুর্যোগে যাঁদের বাড়ি ভেঙেছে, তাঁদের করে দিয়েছি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দেওয়া হল ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান: দেব আমাকে বারবার বলত। ঘাটালে যখনই বন্যা হয়েছে ছুটে গিয়েছি। ডিভিসি থেকে এসে বাংলা ভাসাত। ১০ বছর কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখেছি। উত্তর দেয়নি। তাই আমরা ঠিক করলাম, কেন্দ্র না দিলেও, আমরা টাকা দিলাম। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে আমরা প্রকল্প শুরু করে দিয়েছে। ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার কাজ হয়ে গিয়েছে।
সিঙ্গুরে শিল্প: আমি ডবল ইঞ্জিন সরকার নই, আমাদের মানুষের সরকার। আমরা যতদিন থাকব, কন্যাশ্রী-সব প্রকল্প থাকবে। এখানে ৮ একর জমির ওপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে, সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ২৮টি প্লটের মধ্যে বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে ২৫টি। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কৃষিজমি দখল করে নয়, কৃষি-শিল্প পাশাপাশি চলবে। ৭৭ একর জমিতে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সিঙ্গুরে হচ্ছে। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের বড় ওয়্যার হাউজ হবে। যেখানে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
একশো দিনের কাজ: ওরা মহাত্মা গান্ধীর নাম তুলে দিয়েছে। আমরা মহাত্মাশ্রী কর্মশ্রী প্রজেক্ট চালু করেছি। ১০০ দিনের কাজ বাংলায় চলছে, চলবে। রাজ্যের টাকায় চলবে।
বাংলা ভাষা: এখানে দাঁড়িয়ে একজন বলে গেলেন, আমরা তাঁর চেয়ারটাকে গালি দিচ্ছি না, চেয়ারকে সম্মান করি। বললেন, তারা নাকি ধ্রুপদী ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমি বলছি, মিথ্যা। আপনারা সব ধ্রুপদী ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, বাংলা ভাষা ছাড়া। আমি পাঁচ বস্তা বই পাঠিয়েছিলাম দিল্লিতে, এভিডেন্স দিয়ে। আমাদের আগে পাওয়া উচিত ছিল। আপনারা করেননি, আমরা বাধ্য করেছি আপনাদের করতে। আমাকে আঘাত করে, আমি প্রত্যাঘাত করি, টর্নেডো হয়ে যাই।
আনন্দপুরে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ: আমার আজ দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। দিল্লিকা লাড্ডুদের চেহারা দেখার জন্য। কিন্তু আজকে যেহেতু একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তাই যেতে পারিনি। কাল আমাদের কিছু বন্ধু প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। আমি ববিকে পাঠাই, অরূপকে পাঠাই। তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স কোম্পানি ৫ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে। পুলিশকে বলেছি, মৃতদের পরিবারের একজনকে সিভিকে চাকরি দেওয়ার জন্য।
SIR নিয়ে তোপ: আমি চুপ করে বসে থাকার নই। প্রয়োজন হলে আদালতে গিয়ে দাঁড়াব। যদি অনুমতি পাই, আমিও মানুষের জন্য লড়াই করব। আইনজীবী হিসাবে নই। একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে। আমার কাছে সব নথি রয়েছে। জ্যান্ত মানুষকে মৃত বানাচ্ছে! সবাই বাদ, আর তোমরা থাকবে? বাংলা যদি উত্তর দেয়, বাংলার পাশে দাঁড়াবার ক্ষমতা তোমাদের নেই। বাংলাকে তোমরা ঘেঁচু করবে! আমাকে তোমরা ঘেঁচু করবে, তুমি জেলে ভরো, গুলি করো, আই ডোন্ট কেয়ার! আমি জেলে গেলে মায়েরা জবাব দেবে, বোনেরা জবাব দেবে, ঘরে ঘরে নাড়়ু তৈরি হবে। নাড়ুর সঙ্গে ঝাড়ু তৈরি হবে