Bhabadighi Rail Project: ২০০১ সালে শিলান্যাস, অবশেষে ভাবাদিঘির উপর দিয়ে ছুটবে রেল
Bhabadighi: বিষ্ণুপুর থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলছে। আর এই লাইনেই ভাবাদেখি ছাড়াও কামারপুকুর ও জয়রামবাটির মধ্যবর্তী অমরপুরে জমি জটে আটকে যায় রেললাইনের কাজ। ডবল ইঞ্জিনের সরকার আসার পরেই জমি জট কেটে গিয়ে দ্রুততার সঙ্গে রেললাইন ও বন্যা কবলিত অমরপুরের মাঠে ও আমোদর নদের ওপর গার্ডার ব্রিজের কাজ চলছে।

হুগলি: ভাবাদিঘির ওপর দিয়ে ছুটবে ডাবল ইঞ্জিন রেল। জট কাটিয়ে দ্রুত গতিতে কাজ চলছে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথের। ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের কাজে আশাবাদী ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীরা। নতুন বছরে সেই রেলের উদ্বোধনে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
দীর্ঘদিনের আইনি ও স্থানীয় বাধা কাটিয়ে অবশেষে শেষ পর্যায়ে বহুল প্রতীক্ষিত তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথ নির্মাণের কাজ। গোঘাট ও কামারপুকুরের মধ্যবর্তী ঐতিহাসিক ভাবাদিঘির জট মিটিয়ে জোড়কদমে এগিয়ে চলেছে রেল সেতুর নির্মাণকাজ। ভাবাদিঘির বুকের ওপর ইতিমধ্যেই ৯ টি শক্তিশালী কংক্রিটের পিলার উঠে গিয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে গার্ডার বসানোর প্রস্তুতি চলছে। কামারপুকুর থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত অংশেও বিভিন্ন গার্ডার ব্রিজ ও ট্র্যাকের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
রেলের ইঞ্জিনিয়ররা আশাবাদী, সমস্ত কাজ শেষ করে আগামী বছরের শুরুতেই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে এই রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কামারপুকুরে উপস্থিত থেকে তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর পূর্ণাঙ্গ রেল লাইনের ঐতিহাসিক সূচনা করতে পারেন। একই দিনে তিনি তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর লাইনে ডাবল ট্র্যাকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রকল্পের ঘোষণাও করতে পারেন।
এছাড়া ভবিষ্যতে হাওড়া থেকে বিষ্ণুপুর হয়ে বাঁকুড়া পর্যন্ত বন্দে ভারত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও রেলের ভবিষ্যৎ তালিকায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই রেলের পক্ষ থেকে ভাবাদিঘির খননকার্য করে দিঘির পাড় বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত করে, গ্রামের ভেতর দিতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভাবাদিঘির মানুষজন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাজে আশাবাদী তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।
সম্প্রতি পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের জিএম গীতিকা পান্ডে সরেজমিনে ভাবাদিঘির নির্মীয়মাণ সেতু এবং পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। ২০২৬ সালের মধ্যে সমস্ত লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করতে কাজের গতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তারকেশ্বর, কামারপুকুর, জয়রামবাটি ও বিষ্ণুপুর হুগলি ও বাঁকুড়ার এই চার ঐতিহ্যবাহী মন্দিরনগরীকে সরাসরি যুক্ত করবে এই রেলপথ। ফলে যাতায়াত যেমন অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে, তেমনই স্থানীয় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পেও এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের আমলে এই রেল প্রকল্পে ভাবাদিঘি জট লাগে। দীর্ঘদিন ভাবাদিঘির অংশ বাদ দিয়েও রেল লাইনের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের বারটি রেল প্রকল্প নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে। তারই একটি তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর রেলপথ। আর ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকায় কাজের গতি পাচ্ছে রেলপথে। ইতিমধ্যেই তারকেশ্বর থেকে গোঘাট পর্যন্ত ২০১৬ সালে ট্রেন চালু হয়েছে। বিষ্ণুপুর থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলছে। আর এই লাইনেই ভাবাদেখি ছাড়াও কামারপুকুর ও জয়রামবাটির মধ্যবর্তী অমরপুরে জমি জটে আটকে যায় রেললাইনের কাজ। ডবল ইঞ্জিনের সরকার আসার পরেই জমি জট কেটে গিয়ে দ্রুততার সঙ্গে রেললাইন ও বন্যা কবলিত অমরপুরের মাঠে ও আমোদর নদের ওপর গার্ডার ব্রিজের কাজ চলছে।
