
হুগলি: কাপড়ের ব্যবসায় যা রোজগার করেছিলেন, সেই টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন। সুদে আসলে সেই অঙ্ক মোটাও হয়েছিল। কাপড় ব্যবসায় করতে করতে মনে হয়েছিল, দ্বিতীয় ব্যবসায় ইনভেস্ট করতে! কয়েকজনের সঙ্গে খাতিরও হয়ে গেল! ব্যবসায়ীক পার্টনার হয়ে গেলেন! সেভিংস ভেঙে দু’ কোটি টাকা ঢেলেছিলেন সুপারি ব্যবসায়। সেটাই হল কাল! গুজরাটের তিন ব্যবসায়ীর থেকে সেই টাকা ফিরে পাননি। মানসিক অবসাদে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক ব্যবসায়ী। মৃতের নাম রিপন হালদার (৫২)। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির চুঁচুড়া রবীন্দ্র নগরে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রিপন আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। মহারাষ্ট্রে থেকে ভাল আয়ও করতেন। একটু একটু করে জমিয়েছিলেন টাকা। গুজরাটে তিন ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে ২০২১ সালে সুপারি ব্যবসায় টাকা ঢালেন। প্রথম প্রথম ভালো ব্যবহার করলেও পরে আর ব্যবসায়ীক পার্টনারদের থেকে সেই আচরণ পাননি প্রৌঢ়। ব্যবসা থেকে রিটার্ন না পেয়ে টাকা ফেরত চাইতে থাকেন। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় মানসিক অবসাদে পড়ে যান প্রৌঢ়।
গতকাল পোলবার মহেশপুরে সুপারি কারখানার সামনে কীটনাশক খেয়ে নেন বলে পরিবারের দাবি। তাঁকে চুঁচুড়া হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাঁকে। মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে যে তিন জনকে টাকা দিয়েছিলেন, তাঁদের নাম বলে যান প্রৌঢ়।
প্রৌঢ়ের স্ত্রী মুক্তি হালদার বলেন, “টাকা নেওয়ার পর না ব্যবসা দিয়েছে না টাকা ফেরত দিয়েছে। আমাদের নিঃস্ব করে ছেড়েছে।ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে গিয়েছি, আমরা বাজারের অফিসেও গিয়েছি একাধিকবার কিন্তু টাকা দেয়নি। সঠিক বিচার চাই আমরা শাস্তি চাই।”
স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান ও সুপারী ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ বিশ্বাস বলেন, “আমরা ঘটনাটা জানতাম। বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়েছিল। অনেকবার বলেছিলাম টাকা ফেরত দেওয়ায় জন্য।সেটা দেয়নি।”