
সিঙ্গুর: ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে আবারও চর্চায় হুগলির সিঙ্গুর। কৃষি বনাম শিল্পের লড়াইয়ে যে সিঙ্গুর একদা রাজ্য রাজনীতি পালা বদলের সাক্ষী হয়েছিল, সেই সিঙ্গুরে কয়েকদিন আগে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর বুধবার সভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ইন্দ্রখালি এলাকায় প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক জনসভা করলেন মমতা। আর মুখ্যমন্ত্রীর সিঙ্গুর সফরের দিন তাঁর মেয়ের মৃত্যু নিয়ে ফের মুখ খুললেন তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক। কী বললেন তিনি?
সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানার বিরুদ্ধে আন্দোলন যখন তীব্রতর হচ্ছে, তখন ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়ায় টাটা অধিকৃত জমির ভেতর থেকে জ্বলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাপসী মালিককে। এই মৃত্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূল জমি আন্দোলনের ভিত শক্ত করে। ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। এরপর তাপসী মালিক মৃত্যু তদন্তে তৎকালীন সিপিএমের দাপুটে নেতা সুহৃদ দত্ত ও দেবু মালিককে গ্রেফতার করে সিবিআই। চন্দননগর আদালত তাঁদের দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করে। তাপসী মালিকের মৃত্যু ও সিপিএম নেতাদের যাবজ্জীবন এই দুটোকে হাতিয়ার করে রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু করে তৃণমূল।
যদিও পরবর্তীকালে উচ্চ আদালত অভিযুক্তদের জামিন দেয়। কিন্তু এখনও মামলার চূড়ান্ত রায়দান হয়নি। যা নিয়ে এখনও আফসোস করেন তাপসীর বাবা মনোরঞ্জন মালিক। তিনি বলেন, “নিম্ন আদালতে সাজা হয়েছিল। এরপর হাইকোর্টে তাঁরা জামিন পেয়ে যান। সুহৃদ দত্তের মৃত্যু হয়েছে। আর একজন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমি আশায় রয়েছি, দিদির উপরেই আমার ভরসা রয়েছে।”
অনেক জমিতে চাষ হচ্ছে না। একাংশ বলছে, শিল্প হলে ভালো। আপনি কী বলবেন? প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, “যে জায়গায় প্রজেক্ট হয়েছিল সেখানে চাষ হচ্ছে না। বাকি সব জায়গাতেই চাষ হচ্ছে। আমার মেয়েকে জ্বলন্ত অবস্থায় পুড়তে দেখেছি। আমি চাইব না এখানে শিল্প হোক। টাটা যদি না আসত তাহলে আমার মেয়ে যেত না। টাটা এসেই আমার মেয়ে চলে গেল। তাই টাটাকে আমি আর চাইছি না।” দেওয়ালে টাঙানো মেয়ের ছবি মুছতে মুছতে চোখে জল চলে এল মনোরঞ্জনের।
ছাব্বিশের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। সিঙ্গুরে কি প্রভাব ফেলতে পারবে বিজেপি? তেমনটা মনে করেন না তাপসী মালিকের বাবা। মনোরঞ্জন মালিক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যা কাজ করেছেন, তাঁর ছবি মানুষের মনে গাঁথা রয়েছে। দিদি দিদিই থাকবেন। তাঁকে হারাবার ক্ষমতা বিজেপির নেই। তারা যতই লাফালাফি করুক।” সিঙ্গুরের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন বলে তাঁর দাবি।