Kalyan Banerjee’s Durga Puja: খুঁটি পুজো হয়নি, আর কি দেখা যাবে না কল্যাণের সেই কান্না?
Kalyan Banerjee: অন্যদিকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে পুজোর দায়িত্ব দিয়েছেন সেই গৌর মোহন দে বলেন, "পুজো উদ্যোক্তারা এবং যাঁরা এত বছর ধরে লাইট প্যান্ডেল করে আসছে তারা সবাই সাংসদের কাছে গিয়েছিলেন পুজো হবে। সাংসদ আমার ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি ওদের থেকে সমস্ত কাগজপত্র চেয়েছি বসে সবটা ঠিক করব।"

শ্রীরামপুর: পালা বদল হতেই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Kalyan Banerjee’s puja) পুজো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হল। নিয়ম মেনে রথের দিন খুঁটি পুজো হয়নি। তবে কি এইবার আর দেখা যাবে না সাংসদের আবেগের সেই কান্না? দেখা যাবে না তাঁর দুর্গাপুজোর আরতি? দিশেহারা পুজো কমিটি। পুজো হোক চাইছেন স্থানীয় মন্ত্রী।
শ্রীরামপুরে ৫ ও ৬ এর পল্লী গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির পূজো শ্রীরামপুরের অন্যতম প্রাচীন পুজো গুলির মধ্যে একটি। আরএমএস ময়দানে ধুমধাম করে এই পুজো হয় প্রতিবছর। আগে ব্যবসায়ীরা চাঁদা তুলে এই পুজো করতেন। ২০০৯ সালে শ্রীরামপুরের সাংসদ হওয়ার পর সেই পুজোর দখল নেন। ব্যবসায়ীদের পুজো সাংসদের পুজো নামে পরিচিতি পায়। জেলার অন্যতম বড় পুজো গুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। মুম্বইয়ের শিল্পীদের নিয়ে এসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে ভিড় উপচে পড়ত। কয়েক লক্ষ টাকা বাজেটে মণ্ডপ সজ্জাও ছিল আকর্ষণ। অন্যান্য বছর রথের দিন খুঁটি পুজো করে মণ্ডপ তৈরির সূচনা করতেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু হয়ে যেত পুজোর প্রস্তুতি। এবং পুজোর পাঁচটা দিন যেন চাঁদের হাট বসে এই পুজোতে। থাকত থিমের ছোঁয়া তার সঙ্গে সাবেকি প্রতিমা। প্রতিবার পুজোয় দেখা যেত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সন্ধ্যা আরতি করতে গিয়ে কেঁদে ফেলতেন তিনি।
কিন্তু এই বছর পুরো ছবিটাই যেন আলাদা, তৃণমূল ক্ষমতায় নেই। তাই রথের দিন আর খুঁটি পুজোও হয়নি। এমনকী, অন্যান্য বছরের মতো কোনও থিম ঘোষণা করা হয়নি। মণ্ডপ তৈরির জন্য বাঁশ পড়েনি। তাই সমস্যায় পড়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। পুজো কীভাবে হবে সেইটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
কয়েকদিন আগে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কল্যাণবাবু প্রথমে কিছুটা ইঙ্গিত দিলেও, পরে প্রাক্তন কাউন্সিলরদের দিকে দেখিয়ে দেন বলে দাবি ব্যবসায়ী সমিতির। অন্যদিকে এই পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা শ্রীরামপুর পুরসভার পদত্যাগী কাউন্সিলর সন্তোষ কুমার সিং(পাপ্পু) তিনিও আর আগ্রহ প্রকাশ করছেন না এই পুজো নিয়ে। কারণ তিনি এখন কল্যাণের সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরের হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি হয়েছেন। ফলে অথৈ জলে পরেছে শ্রীরামপুরের এই বিগ বাজেট পুজো।
এক পুজো উদ্যোক্তা বলেন, “আমরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি গৌড় মোহন দে-কে পুজোর দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর কাছে গেলে তিনি বলছেন ব্যস্ত আছি। তাই পুজো নিয়ে টালবাহানা চলছে। অন্যান্য বছর রথের দিন খুঁটি পুজো হয় হয়নি। পুজো হবে, হয়ত আর জাঁকজমক হবে না তবে আমরা পুজো করব।”
আরও এক উদ্যোক্তা জানান, “আগে আমরা এখানে ছোট পুজো দেখেছি, বিগত বেশ কিছু বছর ধরে সাংসদ পুজো করছেন। যদি উনি সরে যান তাহলে আমাদের তো কিছু করার নেই। আমরা চাঁদা তুলে পুজো করব। আমরা কারোর ভরসায় পড়ে থাকব না। কিন্তু এরপর আর যেন কোনও রাজনৈতিক দল এই পুজোতে না ঢোকে।”
অন্যদিকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে পুজোর দায়িত্ব দিয়েছেন সেই গৌর মোহন দে বলেন, “পুজো উদ্যোক্তারা এবং যাঁরা এত বছর ধরে লাইট প্যান্ডেল করে আসছে তারা সবাই সাংসদের কাছে গিয়েছিলেন পুজো হবে। সাংসদ আমার ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি ওদের থেকে সমস্ত কাগজপত্র চেয়েছি বসে সবটা ঠিক করব। এটা সাংসদের পুজো বলেই পরিচিত। আমরা সবাই এই পুজোতে থাকতাম কিন্তু এই পুজোর মূল যে দায়িত্বে থাকতেন সন্তোষ কুমার সিং তিনি এখনো পর্যন্ত কোনও কথা বলছেন না।”
অন্যদিকে শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, “পুজো তো কেউ আটকাতে পারবে না, পুজো পুজোর মতো হবে। সরকার কীভাবে সহযোগিতা করবে সেটা পরের কথা। আমরা ঠিক করেছি আমরা কোনও পুজোর সভাপতিও হব না চেয়ারম্যানও হব না। পুজোর সঙ্গে আমরা অবশ্যই থাকব।”
